নিজস্ব প্রতিবেদক।।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ লন্ডন থেকে ভারতে এসেছিলেন শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। কিন্তু তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করেও সাক্ষাত না পেয়ে হতাশা নিয়ে ফিরে গেছেন তিনি। আর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বহুদিন ধরে দেখা করার চেষ্টা করতে করতে এখন ক্লান্ত। অন্যদিকে জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে শেখ হাসিনার একবার যোগাযোগ হলেও তা সেটা বেশিদূর এগোয়নি।
হাছান মাহমুদ বলেছেন, শেখ হাসিনার পতনের জন্য গোয়েন্দা ব্যর্থতা সবচেয়ে বড় দায়ী। তার দাবি, ঢাকার গোয়েন্দারা সঠিক তথ্য দিলেও শেখ হাসিনা তাদের কথা বিশ্বাস করতেন না। তিনি শতভাগ নির্ভরশীল ছিলেন ভারতীয় গোয়েন্দাদের উপর। তার একগুঁয়েমির কারণেই আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটেছে। আর এটা ঠিক, শেখ হাসিনা যে একগুঁয়েমি কাজ করতেন, এটা দলের সবাই বিশ্বাস করেন।
এসব নানা কারণে বাংলাদেশ ইস্যুতে এবার সিদ্ধান্ত বদলাচ্ছে ভারত। কারণ আগে ভারতে পলাতক থাকা আওয়ামী লীগের নেতারা শেখ হাসিনার সঙ্গে মাঝে মধ্যে দেখা করতে পারতেন। কিন্তু সেই সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনও করতে দেয়নি। মানবজমিন পত্রিকার খবরে বলা হয়, শেখ হাসিনার ব্যাপারে ভারত ভিন্ন কৌশল নিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
পত্রিকাটির খবরে আরো বলা হয়, শেখ হাসিনার পতনের পর ড. ইউনূস সরকারকে স্বীকৃতি দিতে দেরি করেননি নরেন্দ্র মোদি। যদিও ভারত সরকারের ধারণা বাংলাদেশ তার গতিপথ হারিয়েছে। কেউ কেউ এমনও বলছেন, দেশটি পাকিস্তানের পথ ধরেছে। ইউনূস সরকারের ভেতরে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে মাইলস্টোন স্কুল ট্র্যাজেডির পর একদল চিকিৎসক পাঠিয়ে ভারত মানবতা দেখালেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানান কঠোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে। ভিসা বন্ধ, ব্যবসা-বাণিজ্য গুটিয়ে নেওয়া এবং পুশ ব্যাক ও সীমান্ত হত্যাকাণ্ড অনেক বেড়েছে। এসবের মধ্যেই দু’দেশের সম্পর্ক কুল রাখি না শ্যাম রাখির মতো। সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ থেকে একজন ঝানু কূটনীতিককে হাইকমিশনার হিসেবে দিল্লিতে পাঠানোর পর তিনি দৌড়ঝাঁপ করেও বরফ গলাতে পারছে না।
কূটনীতিকরা বলছেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া দু’ দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের কোনো সুযোগ নেই। তারা বলছেন, বাংলাদেশের ঘটনাবলীর উপর সব সময়ই নজর রাখছে ভারত। নির্বাচন ইস্যুতে চরম দক্ষিণপন্থীদের উত্থানে তাদের হিসাব-নিকেশ পাল্টে গেছে। অনেকেই বলছেন, এক ঝুড়িতে আম রাখার পরণতি হচ্ছে এটা। আওয়ামী লীগের বিকল্প তারা একবারও চিন্তা করেনি।
তাই বিকল্প মাথায় রেখেই এখন ঘুঁটি সাজাচ্ছে ভারত। শেখ হাসিনা নয়, তাদের এখন প্রয়োজন বাংলাদেশ। আর এটা হাসিল করার জন্য কৌশল বদল করে বিকল্প শক্তির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে প্রতিবেশি এই দেশটি। ফলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নাটকীয় কোনো পরিবর্তন হলেও হতে পারে। আরো জটিল হতে পারে রাজনীতির হিসেব নিকেশ।
