
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একযোগে সামনে এসেছেন দেশটির সাবেক চার প্রেসিডেন্ট। এরা হলেন- জো বাইডেন, বারাক ওবামা, জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং বিল ক্লিনটন। তারা সবাই আমেরিকার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা প্রকাশ করেছেন। তাদের বার্তার মূল সুর একটাই- আমেরিকা কখনো পূর্ণতা পায়নি, এটি সবসময়ই একটি চলমান প্রক্রিয়া।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আমেরিকা সবসময়ই একটি কাজ চলমান প্রকল্প।” তিনি নতুন প্রজন্মকে আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা দেশের অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়। প্রতি প্রজন্মকে আগেরটির অসমাপ্ত কাজ তুলে নিতে হবে— যা ঠিক আছে তা রক্ষা করতে হবে, যা ভুল তা সংশোধন করতে হবে এবং দেশকে আরেকটু নিখুঁত করতে হবে।
জো বাইডেন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রকে ‘প্রতিশ্রুতি’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “এখন আমাদের পালা। গণতন্ত্র কোনো নিশ্চয়তা নয়। আমাদের এটাকে বারবার লড়াই করে রক্ষা করতে হবে। এটাই তো আমেরিকান হওয়ার অর্থ।”
বাইডেন আরও যোগ করেন যে আমেরিকানরা আজও সম্পূর্ণভাবে সেই আদর্শ পূরণ করতে পারেনি, কিন্তু সেই নীতি একেবারে পরিত্যক্ত হয়নি। তিনি মনে করেন, দেশ যতটা বিভক্ত বলে মনে হয়, আসলে ততটা নয়।
রিপাবলিকান সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ বলেছেন, দেশের সাফল্যের জন্য আমেরিকানদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে। ভোট দেওয়া, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা খুব জরুরি। তিনি স্বীকার করেন যে নির্বাচনের ফলাফল সবসময় পছন্দসই নাও হতে পারে, কিন্তু ভোট দেওয়ার স্বাধীনতাই একটি বড় শক্তি।
এদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন বিল ক্লিনটন । তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, দেশ এখন গভীর বিভক্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠান ও গণতন্ত্র নিজেই হুমকির মুখে। তিনি সরাসরি নাম না নিয়ে ক্ষমতাসীনদের অভিযোগ করেন যে তারা সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিচারব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে এবং ইতিহাস বদলানোর চেষ্টা করছে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি আশাবাদী। ক্লিনটন লিখেছেন, “আমেরিকায় যা ভুল আছে তা আমেরিকার যা ঠিক আছে তা দিয়েই সারিয়ে তোলা সম্ভব।”
এই বার্তাগুলো এমন এক সময়ে এসেছে যখন সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকায় দেশপ্রেম ও গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা কমছে। অনেকে মনে করেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আর আগের মতো কাজ করছে না।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য এই আলোচনা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। যারা সেখানে নতুন প্রজন্মকে বড় করছেন, তাদের সন্তানরা এই গণতন্ত্র ও অগ্রগতির অংশ হয়ে উঠবে। সাবেক প্রেসিডেন্টদের এই কথাগুলো মনে করিয়ে দেয় যে দেশ গড়া কখনো শেষ হয় না— প্রতিনিয়ত লড়াই ও পরিশ্রম চালিয়ে যেতে হয়।
(প্রতিবেদনটি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, নিউইয়র্ক টাইমস এবং সিবিএস নিউজের সূত্রের ভিত্তিতে তৈরি।)
