এসবি বাংলা নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন দমন নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মধ্যে এবার সাজা ঘোষণার মুখে পড়েছেন উইসকনসিনের সাবেক বিচারক হান্না ডুগান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আদালতে হাজির হওয়া এক মেক্সিকান অভিবাসীকে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের হাত থেকে এড়িয়ে যেতে সহায়তা করেছিলেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এ মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে বিচারকের সমর্থকরা এটিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর চাপ সৃষ্টির নজির হিসেবে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের সাবেক সার্কিট জজ হান্না ডুগানের সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে বুধবার। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ফেডারেল জুরি তাকে বিচার কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার (Felony Obstruction) অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। এই অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
রায় ঘোষণার দুই সপ্তাহের মাথায় বিচারকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন ৬৭ বছর বয়সী ডুগান। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের (Impeachment) উদ্যোগ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি প্রায় নয় বছর বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে যে বার্তা দিলেন সাবেক চার প্রেসিডেন্ট
অন্যদিকে ডুগানের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছেন যে, তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, অভিবাসনবিষয়ক ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরোধিতা করা বিচারকদের জন্য একটি বার্তা দিতেই এই মামলা করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৮ এপ্রিল মিলওয়াকি কাউন্টি আদালতে ব্যাটারি মামলায় হাজির হন ৩১ বছর বয়সী মেক্সিকান নাগরিক এডুয়ার্ডো ফ্লোরেস-রুইজ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন।
সেদিন ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আদালতে উপস্থিত হয়ে তাকে আটক করতে চান। অভিযোগ, বিচারক ডুগান কর্মকর্তাদের বলেন, তাদের প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট যথেষ্ট নয়। পরে তিনি অভিযুক্ত ও তার আইনজীবীকে আদালতের একটি ব্যক্তিগত দরজা দিয়ে বেরিয়ে যেতে সহায়তা করেন।
যদিও পরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আদালতের বাইরে ফ্লোরেস-রুইজকে দেখতে পান। সংক্ষিপ্ত ধাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাকে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হয়।
এক সপ্তাহ পর আদালত ভবন থেকেই এফবিআই বিচারক ডুগানকে গ্রেপ্তার করে। হাতকড়া পরিয়ে তাকে আদালত ভবনের বাইরে নিয়ে যাওয়ার ছবি সেসময় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
প্রসিকিউটরদের দাবি, একজন বিচারক হিসেবে ডুগান তার সাংবিধানিক দায়িত্ব লঙ্ঘন করেছেন। তাদের ভাষায়, বিচারকদের স্বাধীনতা থাকলেও আইনের সীমা অতিক্রম করার অধিকার নেই।
অন্যদিকে প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা আদালতকে জানান, বিচারক ইতোমধ্যেই চাকরি হারিয়েছেন, জনসমক্ষে অপমানিত হয়েছেন এবং নিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছেন। তাই কারাদণ্ডের পরিবর্তে তাকে মুক্তি দেওয়াই যথাযথ হবে বলে তারা মনে করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সাজা নির্দেশিকা অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধে ১৫ থেকে ২১ মাস কারাদণ্ডের সুপারিশ থাকলেও বিচারক সেই নির্দেশিকা অনুসরণ করতে বাধ্য নন।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রায় যাই হোক না কেন, ডুগানের আইনজীবীরা ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
তথ্যসূত্র: (প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে The Associated Press (AP)-এর মূল প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে।)
