
যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে অভিবাসন ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে কয়েক মাস ধরে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়ে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত কখনও ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, আবার প্রশাসনের পরিকল্পনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব।
ফলে এই ধারাবাহিক রায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও রাজনীতিকেই নয়, দেশটিতে বসবাসরত লাখো অভিবাসীর ভবিষ্যৎকেও নতুন অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়েছে। বিশেষ করে গ্রিন কার্ডধারী, TPS সুবিধাভোগী, আশ্রয়প্রার্থী এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের জন্য এসব সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক অধিকার বহাল রেখেছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া শিশু, তার বাবা-মায়ের অভিবাসন অবস্থা যাই হোক না কেন, মার্কিন নাগরিক হিসেবেই বিবেচিত হবে।
ক্ষমতায় ফিরে প্রথম দিনই ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে এই নীতি পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন। তার পরিকল্পনা ছিল, অবৈধভাবে অবস্থানকারী কিংবা অস্থায়ী ভিসাধারী অভিভাবকের সন্তানরা আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হবে না। তবে আইনি চ্যালেঞ্জের কারণে আদেশটি কখনো কার্যকর হয়নি।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বড় জয় পেয়েছে টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা (TPS) ইস্যুতে। কারণ প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য দেওয়া অস্থায়ী সুরক্ষা প্রত্যাহারের সুযোগ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে কয়েক লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতি হারাতে পারেন এবং ভবিষ্যতে পড়তে পারেন বহিষ্কারের ঝুঁকিতেও ।
অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর প্রশাসনের TPS বাতিলের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করার সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে।
এদিকে আরেকটি মামলায় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারীদের বিষয়ে প্রশাসনের ক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে এখন থেকে বিদেশ সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা বিশেষ পরিস্থিতিতে গ্রিন কার্ডধারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
বিরোধী মত দেওয়া বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন সতর্ক করে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে লাখো বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ করে যাদের অতীতে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে এখন আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক রায় দেখিয়ে দিয়েছে যে, জাতীয় নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আদালত অনেক ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাকে সমর্থন করলেও, সংবিধানের মৌলিক অধিকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আদালত এখনো কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।
অর্থাৎ ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে অনেক ক্ষেত্রে আইনি সমর্থন পেলেও জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের মতো সাংবিধানিক প্রশ্নে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা এখনো অত্যন্ত কঠিন।
