
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষে আনুপাতিক বা পিআর পদ্ধতিতে ভোট না দিলে এবার আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংসদের উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতিতে ভোটের ব্যাপারে জামায়াত পুরোপরি একমত। দলটির দাবি হচ্ছে– পিআর হতে হবে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষে। আর সেই দাবি আদায়ে এবার আন্দোলনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
পিআর পদ্ধতি হচ্ছে একটি আনুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা। যে পদ্ধতিতে প্রতিটি দলের সারা দেশে পাওয়া মোট ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন হয়।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরে নিরপেক্ষ নির্বাচন কখনও নিশ্চিত করা যায়নি। এজন্য পিআর পদ্ধতিতে ভোট চায় জামায়াত। কুমিল্লা-১১ আসন আগের সীমানায় বহাল রাখার দাবিও জানান জামায়াতের এই নেতা। পরে তিনি সাংবাদিকদের কাছে দলীয় অবস্থান তুলে ধরেন।
আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, কুমিল্লা-১১ আসনের প্রস্তাবিত সীমানা নিয়ে আপত্তি রয়েছে আমাদের। আমরা চৌদ্দগ্রাম নিয়ে আগের মতো আসনটি চেয়েছি, যাতে কোনো পরিবর্তন না হয়।
এখন পর্যন্ত কমিশনের ভূমিকা নিয়ে জামায়াতের আপত্তি নেই জানিয়ে তাহের বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ড শেষ হয়েছে, সেমিফাইনাল ও ফাইনালে কী করে সেটা পর্যবেক্ষণ করবে জামায়াত। তাহের বলেন, জামায়াত নির্বাচনের পক্ষে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, তাতে জামায়াতের আপত্তি নেই। জামায়াতের এই নেতা আরো বলেছেন, জীবনের বিনিময়ে হলেও সিইসি তাকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জামায়াত সবসময় নির্বাচনের পক্ষে। ফেব্রুয়ারি মাসে যে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে, সেই বিষয়ে জামায়াতের মৌলিক কোনো আপত্তি নেই। বিগত তিনটা নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তাহের বলেন, অতীতে তিনটি নির্বাচন যেভাবে হয়েছে, তাতে নির্বাচন নিয়ে মানুষের শঙ্কা কাটেনি। জুলাই গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিও জানান জামায়াতের নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সংস্কার, বিচারসহ নানা ইস্যুতে অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে আসছে জামায়াত। এমনকি নির্বাচন নিয়েও এ পর্যন্ত তেমন কঠোর কোনো বক্তব্য আসেনি তাদের পক্ষ থেকে। তবে
গত ১৩ জুন লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকের পর থেকেই সরকারের সমালোচনা করছে জামায়াত। প্রধান উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দলটি।
এছাড়া সম্প্রতি জুলাই ঘোষণাসহ নানা ইস্যুতে সরকারের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে দেখা গেছে জামায়াতের। তাই হঠাৎ করেই প্রধান উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দলটি। এর অংশ হিসেবেই গত ১৭ জুন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনার প্রথম দিনেও অংশ নেয়নি জামায়াত।
এছাড়া জুলাই সনদে জামায়াতের স্বাক্ষর নিয়ে তাহের বলেন, জুলাই সনদে জামায়াতের স্বাক্ষর করা কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। অর্থহীন কাগজে স্বাক্ষর করার মানে হয় না।
