নিজস্ব প্রতিবেদক।।
বাংলাদেশের বিখ্যাত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের অঢেল সম্পদের হিসাব কারো কাছেই নাই। আনুষ্ঠানিক ভাবে কেউ কখনো প্রকাশও করেনি। সাধারণ মানুষ শুধু এটুকুই জানে, বসুন্ধরা গ্রুপ মানেই টাকা আর টাকা। জানা গেছে, এই কোম্পানিটির সম্পদের পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তবে এই অংক আরো অনেক বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে। যা আয়কর কম দেওয়া বা বৈধ-অবৈধতার প্রশ্নে তা প্রকাশ করা হয় না। এত সম্পদ থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই।
১৯৮৭ সালে আবাসন ব্যবসা হিসেবে বসুন্ধরা গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন আহমেদ আকবর সোবহান। এরপর টাকা আর সম্পদের ওপরই ভাসছেন তিনি ও তার পরিবার। অন্যান্য ব্যবসার মধ্যে এদের রয়েছে দুটি টেলিভিশন চ্যানেল, একটি এফএম রেডিও স্টেশন, একটি অনলাইন সংবাদপত্র এবং তিনটি প্রিন্ট মিডিয়া প্রকাশনা।
জানা গেছে, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও তাঁর পরিবারের সাত সদস্যের নামে ২২টি কোম্পানিতে থাকা ৭৫ কোটি ৪৬ লাখ ৯০ হাজার ৩০২টি শেয়ার অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব শেয়ারের বাজারমূল্য ১ হাজার ৪৫৮ কোটি ৭৫ লাখ ৭ হাজার ৫২০ টাকা বলে জানিয়েছে দুদক।
এদিকে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও তার স্ত্রী আফরোজা বেগমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক আক্তার হোসেন।
দুদক বলছে, আহমেদ আকবর সোবহানের দেশে ৬৭ কোটি ৫০ লাখ ৬৮ হাজার ৭৩৫ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ১৮৪ কোটি ৭১ লাখ ২১ হাজার ৪৮৩ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তিনি মোট ২৫২ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার ২১৮ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করেছেন। তিনি ও তার স্ত্রী যৌথভাবে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ‘পাচার করে’ সে দেশের নাগরিকত্ব নিয়েছেন। সুইজারল্যান্ডের লুগানো, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড ও আইল অফ ম্যানে নিবন্ধিত কোম্পানির ব্যাংক হিসাব খুলে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন।
আহমেদ আকবর সোবহানের স্ত্রী আফরোজা বেগম দেশে ১১৭ কোটি ৯৫ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩৩৫ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ২৯৩ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার মোট সম্পদের মূল্য ৪৫৩ কোটি ১২ লাখ ৮৬ হাজার ৪০০ টাকা। স্বামী সঙ্গে তিনিও সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ‘পাচার করে’ সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন।
দুদকের অভিযোগ, আহমেদ আকবর সোবহান ও তার স্ত্রী নিজেদের নামে বা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তির নামে দেশে ও দেশের বাইরে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির দখলে রয়েছেন বা মালিকানা অর্জন করেছেন, যা ‘অসাধু উপায়ে’ অর্জিত হয়েছে। এসব সম্পদ তাদের জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে ‘অসঙ্গতিপূর্ণ’ হওয়ায় যথাযথভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘অনুমোদন গ্রহণ না করে নিয়মবহির্ভূতভাবে’ তারা দেশের অর্থ সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসে পাচার করেছেন।
এছাড়া সুইজারল্যান্ডের লুগানো, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড ও আইল অফ ম্যানে নিবন্ধিত কোম্পানির ব্যাংক হিসাব খুলে বিপুল পরিমাণ ‘অর্থ পাচার’ করেছেন। বসুন্ধরা চেয়ারম্যান এবং তার স্ত্রী-সন্তানদের বিরুদ্ধে ‘সরকারের রাজস্ব ফাঁকি, ভূমি জবরদখল, ঋণের অর্থ আত্মসাৎ, অর্থ স্থানান্তর ও হস্তান্তর, অর্থ পাচারের’ অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুদক। এর অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের দুদকে তলবও করা হয়েছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী বড় বড় ব্যবসায়ীদের দুর্নীতি-অনিয়মের বিষয়েও অনুসন্ধানে নামে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা।
