নিজস্ব প্রতিবেদক।।

ইন্টারনেটে এবার পঞ্চম প্রজন্মের প্রযুক্তি- ৫জি জগতে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ। দেশের শীর্ষ দুই মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবি আজিয়াটা এরই মধ্যে এই প্রযুক্তি চালু করেছে। ফাইভ-জি হচ্ছে দ্রুতগতির ইন্টারনেট–সেবা। এর গতি ফোর-জির চেয়ে ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি হতে পারে। ৫জি এমন গতির ইন্টারনেট দেয়, যাতে ৪কে বা ৮কে ভিডিও কয়েক সেকেন্ডে ডাউনলোড করা যায়, ক্লাউড গেমিং সম্পূর্ণ ল্যাগ-মুক্ত হয় এবং লাইভ ভিডিও স্ট্রিমিং একেবারে বাধাহীন ভাবে চলে।
ভিডিও দেখুন:
জেনে রাখা ভালো যে, ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ৫জি প্রযুক্তির গবেষণা শুরু হয়। এরপর বাণিজ্যিক ৫জি নেটওয়ার্ক বিশ্বজুড়ে চালু হতে থাকে ২০১৯ সাল থেকে।
কিন্তু কীভাবে আপনি পাবেন এই সুবিধা? এই সুবিধা প্রাথমিক ভাবে ঢাকাসহ সেরা বিভাগগুলোতে চালু হয়েছে।
মোবাইল অপারেটর পরিসেবা প্রতিষ্ঠান রবি জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের সাতটি জায়গায় তারা ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক চালু করেছে। জায়গাগুলো হলো ঢাকার ফকিরাপুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু এলাকা, মগবাজার চৌরাস্তা; চট্টগ্রামের খুলশী, পাঁচলাইশ ও ওয়াসা মোড় এবং সিলেটের সাগরদিঘির পাড়। পর্যায়ক্রমে দেশের বাকি অঞ্চলে এই সেবা চালু হবে।
অন্যদিকে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ বলেছে, রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর বিভিন্ন জায়গায় তারা ফাইভ-জি চালু করেছে। পর্যায়ক্রমে বেজ ট্রান্সসিভার স্টেশন বা-বিটিএসগুলো ফাইভ-জির আওতায় আনা হচ্ছে। বিটিএসগুলো সাধারণত আমাদের কাছে টাওয়ার নামে পরিচিত।
ফাইভ-জি ব্যবহার করতে হলে এ সুবিধা সমর্থন করে—এমন মোবাইল ফোন থাকলেই হবে। এজন্য সিম পরিবর্তন করতে হবে না। এ ছাড়া ফাইভ-জি ব্যবহার করতে বাড়তি কোনো টাকাও দিতে হবে না। ফোর-জি ডেটা কিনেই গ্রাহকেরা ফাইভ-জি ব্যবহার করতে পারবেন।
অর্থাৎ গ্রামীণফোন ও রবির ফাইভ-জি নেটওয়ার্কভুক্ত এলাকার কোনো গ্রাহকের এই প্রযুক্তি উপযোগী মুঠোফোন থাকলেই তিনি তা ব্যবহার করতে পারবেন। প্রয়োজনে মুঠোফোনের কানেকশন অপশন থেকে ফাইভ-জি চালু করে নিতে হবে।
ভিডিও স্ট্রিমিং, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ডিভাইসে সংযোগ–সুবিধা, স্মার্ট সিটি, টেলিমেডিসিন, এআর/ভিআর, ক্লাউড গেমিং, স্বচালিত গাড়ি, অনলাইন ক্লাস ও দূর থেকে অস্ত্রোপচারসহ অটোমেশনের সেবা ৫ জি প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়। দেশে ২০২১ সালে প্রথম ফাইভ-জির পরীক্ষা হয়। সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটক দেশের কিছু স্থানে এ পরীক্ষা করা ।
