
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে রাজপথে সব সময় সক্রিয় দেখা গেলেও বিতর্ক তার পিছু ছাড়ছে না। বিগত দিনগুলোতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির পক্ষে সোচ্চার থাকলেও এখন নিজ দলের নেতা-কর্মীদের হাতেই লাঞ্ছিত হতে হয়েছে তাকে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে শুনানিতে রুমিন ফারহানাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ নিয়ে অফিসিয়াল কোনো প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়নি বিএনপির পক্ষ থেকে।
এছাড়া ২০১৯ সালে শেখ হাসিনা সরকারের কাছে ঢাকার পূর্বাচল আবাসিক এলাকায় ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করে বেকায়দায় পড়েছিলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এরপর সারাদেশে তীব্র সমালোচনা ও হাস্যরসের পর সেই আবেদন প্রত্যাহারও করে নেন তিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে মনোনয়ন চান টেলিভিশন টকশোর পরিচিত মুখ ব্যারিস্টার রুমিন।
এদিকে বর্তমান সরকার ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে একের পর এক বক্তব্য দিয়ে অনেকেরই বিরাগভাজন হয়েছেন একই দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুল রহমান। সম্প্রতি জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে কিছু মন্তব্য করায় বিএনপিতে বেশ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এরপর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিসও দেওয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে ক্রমাগত ‘কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগে বিএনপি থেকে গতকাল ফজলুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে বিএনপির প্রগতিশীল চিন্তার এই নেতা বলেন, আমার দল আমার ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা আমি মাথা পেতে নেবো।
অন্যদিকে বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় তাঁর বাসার সামনে অবস্থান নিয়েছে সরকার সমর্থক একদল লোক। রোববার মধ্যরাত থেকে ‘বিপ্লবী ছাত্র জনতা’ ব্যানারে কনকর্ড টাওয়ারের সামনে অবস্থান নিয়ে তাঁরা বিক্ষোভ করেন। পরে ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’, ‘জুলাই রাজবন্দী’সহ কয়েকটি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাদের অভিযোগ, ফজলুর রহমান বাংলাদেশে আবার বাকশাল ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। আন্দোলনকারীদের কারণে দুদক কার্যালয়ের সামনের ব্যস্ত সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালে তারা অন্যপাশে গিয়ে বসেন।
একটি টেলিভিশনের টক শোতে তিনি এই অভ্যুত্থানকে একটি 'ষড়যন্ত্র' হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং এর পেছনে 'কালো শক্তি' হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরকে দায়ী করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাসার সামনে একটি পক্ষ দিনভর অবস্থান নেয়ায় নিজের নিরাপত্তা দাবি করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের নিরাপত্তা দাবি করে বক্তব্য রাখেন- ফজলুর রহমান। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার পর তাদের অবস্থান ঘিরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।
ফজলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতাবিরোধী দু’জন ইউটিউবার আমাকে হত্যা করার জন্য অর্ডার দিয়েছে। তারা বলছে আমার উপর মব প্রযোজ্য। এরা সবাই জামায়াতের লোক। তিনি বলেন, আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না কিন্তু অপমৃত্যু আমার প্রাপ্য না। কারণ আমি এদেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আমি যুদ্ধ না করলে, মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ না করলে এই সন্তানেরা তো বাংলাদেশের সন্তান হতো না, তারা হতো পাকিস্তানের সন্তান।
