
চূড়ান্ত ফল ঘোষণার সময় বাঁয়ে সালাউদ্দিন আম্মার ও ডানে মোস্তাকুর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
ডাকসু–জাকসু–চাকসুর পর রাকসুতেও বিপুল ভোটে জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ জয়ী হয়েছেন ভিপি পদে মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ) ও জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলের সালাউদ্দিন আম্মার। নির্বাচনে ২৩ পদের মধ্যে ২০টিতেই জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল।
নির্বাচনে মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ) পেয়েছেন ১২ হাজার ৬৮৭টি ভোট। একই পদে নিকটতম ছাত্রদল–সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন (আবির) ৩ হাজার ৩৯৭টি ভোট পেয়েছেন।
এদিকে জিএস পদে ১১ হাজার ৪৯৭টি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন সালাউদ্দিন আম্মার। তাঁর নিকটতম শিবিরের প্যানেলের জিএস প্রার্থী ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজা পেয়েছেন ৫ হাজার ৭২৭ ভোট। আম্মার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক। ফাহিম রেজাও সাবেক সমন্বয়ক।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শিবিরের অব্যাহত এই বিজয়ের অর্থ তাদের দলকে সমর্থন করা নয়। বরং বিগত দিনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শাসনের সময় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের বহি:প্রকাশ। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার একটানা দীর্ঘ ১৭ বছর সাধারণ মানুষের মতামতকে পাত্তা না দিয়ে শুধু দলের দৃষ্টিকোণ থেকে দেশ পরিচালনা করে সবক্ষেত্রে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিল। আর বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই সারাদেশে টেম্পু স্ট্যান্ড, বাসস্ট্যান্ড দখল, চাঁদাবাজি করে ব্যাপক বদনাম কুড়িয়েছে। ফলে তাদের নির্যাতন থেকে বাঁচতে মানুষ বিকল্প খুঁজছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রায় ৩৫ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এই রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। ১৯৯০ সালের পর দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি।
শুক্রবার সকাল ৯টায় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে। সেখানে অধিকাংশ পদে জয়ী হয়েছে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল। রাকসুতেও একই ধারাবাহিকতা দেখা গেল।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি ভবনের ১৭টি কেন্দ্রে ১৭ হলের শিক্ষার্থী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট দেন। দিনভর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে বিকেলে ভোট গ্রহণ শেষ হয়।
