
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
আগামী ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বড় ধরনের সহিংসতার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এজন্য রাজধানী ঢাকাসহ দেশের একাধিক জেলায় ইতিমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে সন্দেহজনক কিছু তৎপরতা নজরে এসেছে বলে জানিয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন ও কিছু ভিন্ন মতের গোষ্ঠী অনলাইনে সমন্বয় করে নির্দিষ্ট দিনটিকে কেন্দ্র করে একযোগে নাশকতা ঘটানোর পরিকল্পনা করছে। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ১৩ নভেম্বর ঢাকা লকডাউনের ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে বলে দৈনিক আমার দেশ এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে, টেলিগ্রাম, সিগন্যাল ও এনক্রিপ্টেড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে এই যোগাযোগ চলছে। কিছু জায়গায় স্থানীয়ভাবে ছোট ছোট গ্রুপ তৈরি করে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ারও তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের উদ্দেশ্য—রাজনৈতিক উত্তেজনা বা আন্দোলনের আবহ ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা চালানো। তাই সেনাবাহিনীকে আপাতত মাঠে রাখার সুপারিশ করেছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
নিরাপত্তা সংস্থার তথ্যমতে ঢাকায় অন্তত পাঁচটি স্থানে ডিজিটাল যোগাযোগ ও নাশকতা কৌশলের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সেনাবাহিনী এক সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সাদিকুল হক সাদেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোপালগঞ্জেও একই ধরনের প্রশিক্ষণের প্রমাণ পেয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এ কারণে কিছু সাবেক ও বর্তমান পুলিশ কর্মকর্তার উপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সূত্র জানায় সংগঠনটি অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে সহিংসতা ঘটানোর পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি ঢাকায় একটি অস্ত্রের চালান আটক করেছে সেনাবাহিনী। আশঙ্কা করা হচ্ছে আরো কয়েকটি চালান দেশে ঢুকতে পারে।
এছাড়া আগের সরকারের আমলে দলীয় বিবেচনায় দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্স গুলোর মধ্যে অনেকগুলো এখনো জমা হয়নি। এসব অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ১৩ নভেম্বরের আগের রাত থেকেই রাজধানী ও আশেপাশে বিশৃঙ্খলা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্র।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমরা ইতিমধ্যেই সন্দেহভাজন কয়েকজনকে নজরদারিতে রেখেছি।
দেশজুড়ে চেকপোস্ট ও মোবাইল টিম বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাই জনগণ আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থেকে কোনো গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৩ নভেম্বরকে ঘিরে যেভাবে গোপন সমন্বয় হচ্ছে, তা কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, বরং এর পেছনে বিদেশি যোগাযোগ বা অর্থায়নের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাদের মতে, দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে একটি সংগঠিত মহল সক্রিয় রয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিশেষ প্রতিবেদন দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কিছু অঞ্চলকে “রেড জোন” হিসেবে চিহ্নিত করে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনে সেনা বাহিনী ও র্যাবকেও মাঠে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে রাজধানীর প্রবেশমুখে, বিশেষ করে টঙ্গী, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও যাত্রাবাড়ীতে চলাচলকারী যানবাহনে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ইউনিটও কাজ করছে অনলাইন গুজব ও উসকানিমূলক প্রচার দমনে।
এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসন স্কুল-কলেজের নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে।
বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটি পুলিশ সদস্যদেরও যুক্ত করা হয়েছে এই কাজে।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে ভয় ছড়ানো বার্তা” প্রচারের অভিযোগে বেশ কিছু ফেসবুক ও টেলিগ্রাম আইডি নজরদারিতে আনা হয়েছে। গোয়েন্দারা বলছেন—এগুলোর পেছনে কিছু প্রবাসী গ্রুপও জড়িত থাকতে পারে।
, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনগণ যেন আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকে। কোথাও সন্দেহজনক কোনো কার্যকলাপ দেখলে সাথে সাথে নিকটস্থ থানায় জানাতে বলা হয়েছে।
