
নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ক্রমেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীরা। ঢাকার মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে খুন এবং চট্টগ্রামে নির্বাচনি প্রচারের মধ্যে গুলির ঘটনায় সংগঠিত অপরাধচক্রের উত্থান দেখা যাচ্ছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আধুনিক অস্ত্র, কিশোর-তরুণের সমন্বিত গ্যাং নেটওয়ার্ক এবং বিদেশ থেকে পরিচালিত ভার্চুয়াল কমান্ড রুম।
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার খবরে বলা হয়, নিরাপত্তা সংস্থা এবং পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কিছু গ্যাং রাজনৈতিক নেতা, শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখছে। তাদের উদ্দেশ্য—নির্বাচনের আগে সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করা, এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি এবং অপরাধচক্রকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে টাকা কামানোর নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশ তৈরি করা।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটির খবরে আরো বলা হয়েছে, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া গ্যাং নেতা এবং বিদেশে গা-ঢাকা দেওয়া অপরাধীরা আবার তাদের চক্র গঠন করছে। তারা এনক্রিপটেড অ্যাপ, আন্তর্জাতিক ফোন নম্বর, হুন্ডি নেটওয়ার্ক ও ভার্চুয়াল রুম ব্যবহার করে তাদের অনুসারীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে।
তবে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় থাকলেও তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অদৃশ্য রাজনৈতিক অপরাধী নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা। কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাজধানী ঢাকায় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার আশীর্বাদ রয়েছে আন্ডারওয়ার্ল্ড মাফিয়াদের ওপর। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে নিয়মিত রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার আরেকটি খবরে বলা হয়, ১৮ সীমান্ত দিয়ে বিপুল সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র দেশে ঢুকছে। এসব আগ্নেয়াস্ত্র কীভাবে এতো সহজলভ্য হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে জানা গেছে, টেকনাফ, বেনাপোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর ও মেহেরপুরসহ অন্তত ১৮টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে নিয়মিত ঢুকছে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও অ্যামুনিশন।
নদীপথ, ট্রানজিট, নাফ নদের অগভীর পয়েন্ট, এমনকি ছোট দ্বীপাঞ্চল ব্যবহার করে অস্ত্র চোরাচালান চলছে গোপনে। জুলাই বিপ্লবে দেশের বিভিন্ন থানায় লুট হওয়া পাঁচ হাজার ৭৬৩টি অস্ত্রের মধ্যে এক হাজার ৩৪০টি এখনো নিখোঁজ।
গোয়েন্দারা বলছেন, এ অস্ত্রগুলোই এখন রাজধানীর বড় গ্যাংগুলোর হাতে, যা নির্বাচনের আগে পরিস্থিতিকে আরো অনিশ্চিত করে তুলছে। যদিও র্যাব গত চার মাসে ১৮৯টি এবং বিজিবি ৯ মাসে এক হাজার ২২৫টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। তবুও পুলিশের নিখোঁজ অস্ত্র শনাক্তকরণে খুব বেশি অগ্রগতি নেই। গোয়েন্দাদের দাবি, ৭৫টির বেশি গ্যাংয়ের হাতে এখন স্বয়ংক্রিয় বিদেশি অস্ত্র রয়েছে।
