
এসবি বাংলা নিউজ ডেস্ক।।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার ঘটনার পর কংগ্রেসে কঠোর প্রশ্নের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ-DHSর প্রধান Kristi Noem। দুই দিনব্যাপী শুনানিতে আইনপ্রণেতাদের সামনে উপস্থিত হয়ে তিনি তার বিভাগের কর্মকাণ্ডের পক্ষে সাফাই দেন, যদিও বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কিছু রিপাবলিকান সদস্যও তার সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মিনিয়াপোলিসে নিহত দুই বিক্ষোভকারী রেনি গুড এবং অ্যালেক্স প্রেট্টিকে নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক দেখা দেয়। ঘটনার পর নোয়েম দাবি করেছিলেন তারা সশস্ত্র উসকানিদাতা ছিলেন। তবে ঘটনাস্থলের ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সেই দাবির সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। শুনানিতে মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি Jamie Raskin এ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন নিহতদের সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। তার মতে, এমন মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজিত করেছে।
শুনানির সময় আরও কয়েকজন আইনপ্রণেতা অভিযোগ করেন, অভিবাসন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা অভিযানের সময় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে মানুষকে গাড়ি থেকে জোর করে নামানো হয়েছে এবং একজন মার্কিন নাগরিককে তার বাড়ি থেকে পায়জামা পরা অবস্থায় আটক করা হয়েছে। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নোয়েম বলেন, কর্মকর্তারা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন এবং মূলত গুরুতর অপরাধীদের লক্ষ্য করেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অভ্যন্তরীণ তদারকি সংস্থার প্রধান Joseph Cuffari অভিযোগ করেছেন, কিছু তদন্তে তার অফিসকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ডাটাবেসে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি। জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি Hank Johnson শুনানিতে বলেন, এতে তদন্ত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে নোয়েম এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, পরিদর্শক জেনারেলের দপ্তর কী তথ্য চেয়েছে তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি।
বিভাগটির বিপুল বাজেট ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কংগ্রেস থেকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে প্রায় ১৭০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অবৈধভাবে থাকা অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি ২২০ মিলিয়ন ডলারের বিজ্ঞাপন প্রচারণা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
আরেকটি বিতর্কিত বিষয় হলো প্রশাসনিক পরোয়ানা ব্যবহার করে অভিযানের ক্ষমতা। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারকের অনুমতি ছাড়াই সন্দেহভাজনের বাড়িতে প্রবেশ করা হয়েছে। নোয়েম জানান, তার নেতৃত্বে এ ধরনের পরোয়ানা খুব সীমিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে কেনটাকির রিপাবলিকান প্রতিনিধি Thomas Massie বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ এবং সেটি কঠোরভাবে মেনে চলা উচিত।
