
২৪ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও নারায়ণগঞ্জে মোট তিনটি মামলা রয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল মামলার মূল রায়দানকারী হিসেবে রাজনৈতিকভাবে সমালোচিত ছিলেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি। তার এই রায়ের ফলে দেশে রাজনৈতিক সংঘাতের মাত্রা আরো বেড়ে যায়।
বিচার বিভাগে ব্যাপক আলোচিত ও সমালোচিত নাম এবিএম খায়রুল হক। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খুশি রাখাই ছিল যার অন্যতম কাজ। তার বেশ কিছু রায় ঘিরে এখনও চলছে বিতর্ক। তবে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি তাকে। অবশেষে সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানাভাবে সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন বিচারপতি খায়রুল হক। তাকে প্রধান বিচারপতি করা হয়েছিল কয়েকজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে ডিঙিয়ে। অবসর গ্রহণের কয়েকদিন আগে তিনি ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করেন। এছাড়াও রাজনৈতিক একটি বিষয়কে আদালতের আওতাধীন করে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক নন বলে রায় দিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি বিতর্কিত একাধিক বিচারপতিকে শপথ পড়ানো, আগাম জামিনের এখতিয়ার কেড়ে নেওয়া, খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারসহ তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় খায়রুল হকের বিরুদ্ধে জাল জালিয়াতি করে রায় দেওয়া এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা রয়েছে। গত বছরের অর্থাৎ ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল বারী ভূঁইয়া বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এ ছাড়া ঢাকাতেও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।
২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান খায়রুল হক। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর নিয়োগ কার্যকর হয়। পরের বছরের ১৭ মে তিনি অবসরে যান। ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই খায়রুল হককে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই মেয়াদ শেষে কয়েক দফা কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়। গত বছরের ১৩ আগস্ট তিনি কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
খায়রুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে- হাইকোর্ট বিভাগে থাকাকালে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় ও সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী মামলার রায় দিয়েছিলেন। এ ছাড়া তিনি ঢাকার চার নদী রক্ষা, স্বাধীনতার ঘোষকসহ বিভিন্ন মামলায় রায় দেন। অভিযোগ রয়েছে, একাধিক জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে ডিঙিয়ে খায়রুল হককে বানানো হয়েছিল দেশের প্রধান বিচারপতি।
২০১১ সালের ১০ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধানসম্বলিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের মৌখিক রায় দিয়েছেলেন এবিএম খায়রুল। আপিল বিভাগের সংক্ষিপ্ত এ রায়ে আরও দুই মেয়াদে নির্বাচন করার পথ খোলা রাখা হয়। কিন্তু ভিন্নতা ছিল লিখিত রায়ে। এ নিয়ে প্রশ্নও তুলেছিলেন দেশের ১১তম প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরী।
