নিউজ ডেস্ক।।
আবার অশান্ত হয়ে উঠছে পার্বত্যজেলা খাগড়াছড়ি। এ জেলার দীঘিনালা উপজেলার গহীন অরণ্যে দুই দল বন্দুকধারীর মধ্যে গুলি বিনিময়ে অন্তত চারজন নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় দুটি দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে এ সংঘাত হয় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকারিয়া বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, গুলি বিনিময়ের খবর আমরা শুনেছি। ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে সেটি উপজেলা সদর থেকে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গহীন অরণ্যে। যেখানে সহজে পুলিশ গিয়ে অভিযান পরিচালনা করতে পারে না।
স্থানীয়রাও জানিয়েছেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাত আটটার পর নাড়াইছড়ির দুর্গম এলাকায় দীর্ঘসময় ধরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চার জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনা সংশ্লিষ্ট কেউ স্বীকার করেনি।
এ ঘটনার কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ইউপিডিএফ-এর মুখপাত্র অংগ্যা মারমা। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেছেন, তাদের সংগঠন একটি গণতান্ত্রিক দল। “আমরা কারও সাথে যুদ্ধে লিপ্ত নই। আমাদের কেউ নিহতও হয়নি। আমাদের নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, যেখানে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে ওই এলাকাটি ভারত সীমান্তের একেবারেই কাছে। ওই এলাকা দিয়ে পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা ঘটে বলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য যে কোনো মূল্যে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ রাখতে চায়।
আর এই নিয়ন্ত্রণ নিয়েই ওই এলাকায় ইউপিডিএফ ও জেএসএস এর দুটি সশস্ত্র অংশের মধ্যে গত কিছুদিন ধরেই সংঘর্ষ হয়ে আসছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এসব ঘটনা নিয়ে ওই এলাকার কেউ নাম প্রকাশ করতে চান না। তারা বলেন, এ বিষয়ে কথা বললে প্রাণ থাকবে না।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে ইউপিডিএফ এবং জেএসএসের দুজন সামরিক কমান্ডারের নেতৃত্বাধীন দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠী নিজেদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে যারা নিহত সবাই ইউপিডিএফ এর সামরিক শাখা ‘গণমুক্তি ফৌজ’ বা পিপলস্ লিবারেশন আর্মির সদস্য। তবে অংগ্যা মারমা বিবিসি বাংলার কাছে দাবি করেছেন, তাদের এমন কোনো সামরিক শাখা নেই।
ইউপিডিএফ এর প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের এক বিবৃতিতেও বলা হয়েছে, তাদের চার সদস্যের নিহত হওয়ার খবর সত্যি নয়। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বা জেএসএস এর দিক থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
১৯৯৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও জন সংহতি সমিতির নেতা জ্যোতিরিন্দ্রি বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমার মধ্যে শান্তি চুক্তি হওয়ার পর এর বিরোধিতা করে গড়ে উঠেছিলো ইউপিডিএফ। যার নেতৃত্বে ছিলেন প্রসিত বিকাশ খিসা। আর সেই ক্ষোভ থেকে পার্বত্য শান্তিচুক্তির বিরোধিতার মাধ্যমে ১৯৯৮ সালের ২৬ জুন ঢাকায় এক কনফারেন্সের মাধ্যমে ইউপিডিএফ-এর জন্ম হয়। সন্তু লারমার দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতির সমিতি থেকে তরুণদের একটি অংশ বের হয়ে ইউপিডিএফ গঠন করে।
পরে পাহাড়ে ইউপিডিএফ যত বিস্তৃত হতে থাকে, সন্তু লারমার প্রভাব-প্রতিপত্তি ততই কমতে থাকে। পরবর্তীতে জেএসএস ও ইউপিডিএফ ভেঙে আরও উপদল তৈরি হয়ে বিভিন্ন সময়ে পাহাড়ের নানা জায়গায় এসব দল-উপদল নানা ধরনের সহিংস তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে।
