
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ও এর অনুসারীদের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক বেশ মধুর হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একযুগেরও বেশি সময় ধরে যে সম্পর্ক ছিল সাপে-নেউলে। আর এর প্রভাবেই আ ২৩ আগস্ট দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। গত তিন দশকের মধ্যে এই প্রথম পাকিস্তানের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সফর।
খবরে বলা হয়েছে, ইসহাক দার তাঁর সফরের দ্বিতীয় দিনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন। একই দিনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে তার। এছাড়া আলোচনায় বসতে পারেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি হতে পারে ২৪ আগস্ট।
এর আগে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে গত এপ্রিলে ঢাকায় এসেছিলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালুচ। এরই ধারাবাহিকতায় এ সফরে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্তরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারেন ইসহাক দার।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দুই দেশের নানা পর্যায়ের আলোচনা সক্রিয় করার ওপর জোর দিয়ে আসছে পাকিস্তান। এরই অংশ হিসেবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালুচ পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক করতে গত এপ্রিলে ঢাকায় এসেছিলেন।
গত ২৭ বা ২৮ এপ্রিল ইসহাক দারের ঢাকা সফরের কথা ছিল; কিন্তু ‘অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে’ পাকিস্তান ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ২৪ এপ্রিল তাঁর সফর স্থগিতের কথা জানায়। বিশেষ করে গত ২২ এপ্রিল ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের গুলিতে ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার জেরে সংঘাতে জড়ায় ভারত ও পাকিস্তান।
প্রায় ১৫ বছরের বিরতি শেষে ঢাকায় গত ১৭ এপ্রিল বৈঠকে বসেছিলেন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিবেরা। বৈঠকে দুই দেশ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আলোচনার অন্য প্রক্রিয়াগুলো নিয়মিত রাখার ওপর জোর দেয়। ফলে এ আলোচনাকে দেখা হয় দেড় দশকের স্থবির সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের প্রথম ধাপ হিসেবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ওই আলোচনায় বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, বোঝাপড়া ও অভিন্ন স্বার্থে জোর দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই বার্তা দেওয়া হয়, সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের সম্পর্ক যেখানে এসেছে, তা এগিয়ে নিতে হলে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর দ্রুত সুরাহা জরুরি।
