নিজস্ব প্রতিবেদক।।
একটু দুইটু নয়, সরকারি প্রায় দেড়শো একর জমি দখলে নিয়েছেন সিলেটের ভোলাগঞ্জের উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিন। ভোলাগঞ্জে ১০ নম্বর সাইট এলাকায় সরকারি প্রায় ১৫০ একর জমি দখলে নেন তিনি। এর আগে আওয়ামী লীগের সময় নামকরা বালু খেকো নামে পরিচিত আরেক সোনার টুকরা ছিল চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের আলোচিত চেয়ারম্যান সেলিম খান। যিনি চাঁদপুর নৌ-সীমানায় পদ্মা-মেঘনা নদীতে শত শত ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছিলেন। কিন্তু বিধিবাম! ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট জান নিয়ে পালানোর সময় জনতার রোষানলে পড়ে প্রাণ হারান দাপটশালীসেই সেলিম ও তার গুণধর পুত্র চিত্রনায়ক শান্ত খান। আহারে জীবন!
এদিকে বছর দুই আগে সাহাব উদ্দিনকে অবৈধ জমি থেকে উচ্ছেদও করেছিল স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আর একটুও বসে থাকেননি বিএনপি নেতা সাহাব উদ্দিন। ওইদিন বিকেলেই নিজের বড় দলবল নিয়ে বিশাল আকারের এই জমি আবার দখলে নেন বিএনপির নেতা। তখন তাঁর অনুসারীরা স্থলবন্দর নির্মাণে নিয়োজিত ঠিকাদারদের জিনিসপত্র ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগও করেন। ওই অনুসারীরা এসময় পর্যটনের উন্নয়ন কাজের জন্য নির্মিত সীমানাপ্রাচীরও ভেঙে ফেলে। পরে নির্মাণাধীন স্থলবন্দরের ৫২ দশমিক ৩০ একর জমি ছাড়া উভয় পাশের প্রায় ২০০ একর জমির দখল নেন সাহাব উদ্দিনসহ স্থানীয় দাপটশালীরা।
গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, সাহাব উদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতির পাশাপাশি জেলা বিএনপির সহসভাপতিও। তাঁর দখলে থাকা জমি তিনি পাথর ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দিয়েছেন।
এ অভিযোগ ওঠার পর সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রথাগত ব্যবস্থাও নিয়েছে বিএনপি। সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রের পাথর লুটপাটের ঘটনায় উপজেলা সাহাব উদ্দিনের পদ স্থগিত করা হয়েছে। দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে সাদাপাথরে লুটপাটের বিষয়টি উল্লেখ করা না হলেও চাঁদাবাজি ও দখলবাজির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার রাতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ওই নেতার পদ স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আবদুল মান্নানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও সরকারি জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাহাব উদ্দিন। তার দাবি, একটি পক্ষ তাঁকে ঘায়েল করতে পেছনে লেগেছে। তিনি কোনো জমি দখল করে পাথর ব্যবসায়ীদের ভাড়া দেননি।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, দেশের সবচেয়ে বড় পাথর কোয়ারি ভোলাগঞ্জে। কোয়ারির পাশে সরকারের অন্তত ২৭৫ একর খোলা জমি রয়েছে। সেই জমিতে চোখ পড়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের। এরপর ২০০১ সালের দিকে সেই জমি দখল নেন প্রভাবশালী কয়েকজন। এর মধ্যে সাহাব উদ্দিনের দখলে চলে যায় অর্ধেকের বেশি। পরে দখলকারীরা জায়গাগুলো পাথর ভাঙার মেশিনের মালিকদের কাছে ভাড়া দেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ভোলাগঞ্জে ১৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি স্থলবন্দর নির্মাণ কাজ শুরু করেছিল তৎকালীন সরকার। পাশাপাশি পর্যটনের উন্নয়নে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে আরেকটি প্রকল্প হাতে নেয়। এ অবস্থায় দুই বছর আগে সরকারি জমি অবৈধ দখলদার থেকে উদ্ধারে অভিযান চালায় স্থানীয় প্রশাসন। তবে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে আবার সেই জমি আবার রাঘব বোয়ালদের কবলে চলে যায়।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ সাংবাদিকদের বলেছেন, সরকারি জায়গা থেকে দখলকারদের উচ্ছেদে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে। জায়গাটি নিয়ে মামলা ছিল। রায় সরকারের পক্ষে গেছে। দ্রুত রায় পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
