
এসবিবাংলা নিউজ ডেস্ক।।
ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পুলিশ বলছে, বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ডাকাতি করতে আসা ছয় বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে তারা। ওই দলের আরও একজনকে স্থানীয় গ্রামবাসী মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তবে এই দলের প্রধানকে এখনো ধরতে পারেনি তারা।
গ্রেফতারদের কাছ থেকে বাংলাদেশ পুলিশের এক কনস্টেবলের পরিচয়পত্র, তিনটি ওয়্যারলেস সেট, কিছু বিস্ফোরক, চাকু, কাঁটাতারের বেড়া কাটার যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশের পরিচয়পত্রটি আসল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নেত্রকোনা ও শেরপুর জেলার পুলিশ কর্মকর্তারা এবং বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশও বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যম থেকেই এ ঘটনা সম্পর্কে তারা জানতে পেরেছেন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু তাদের জানানো হয়নি।
মেঘালয়ের সাউথ ওয়েস্ট খাসি হিলস জেলার পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট বি জেরোয়া বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, গত আটই অগাস্টে খুব ভোরের দিকে রঙ্গডাঙ্গাই গ্রামের একটি দোকানে হানা দেয় আট-নয়জন দুষ্কৃতকারী। সেই দোকানের এক কর্মচারী বালস্রাং মারাককে গামছা দিয়ে হাত বেঁধে অপহরণ করে নিয়ে মারধর করে তার কাছে দোকানের মালিকের সম্বন্ধে জানতে চাওয়া হয়।"
এক পর্যায়ে ওই যুবক দুষ্কৃতকারীদের কাছ থেকে পালিয়ে গ্রামের একটি বাড়িতে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। তখন দুষ্কৃতকারীর দল ওই বাড়ির দরজায় ধাক্কা দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলিও ছোঁড়ে। এতে ভয়ে ওই বাড়ির মালিকরা দরজা খুলে দিলে মারাককে ওই দুষ্কৃতকারী ব্যাপক মারধর করে ছেড়ে দিয়ে তারা গ্রাম থেকে পালিয়ে যায়।
পরে গ্রামবাসীর কাছে খবর পেয়ে মেঘালয়ের পুলিশ গিয়ে আহত বালস্রাং মারাককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এরপর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিএসএফ এর সঙ্গে যৌথভাবে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে মেঘালয় পুলিশ। এসময় পাশের ঘন জঙ্গল সংলগ্ন পাথর খনি থেকে ডাকাতি করা কুঠার, কাঁটাতারের বেড়া কাটার যন্ত্র, পিস্তলের খোল, স্ক্রু ড্রাইভার, চাকু, বাংলাদেশ পুলিশের পরিচয় পত্রসহ মোট ২১টি সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। পরের দিন, শনিবার খঞ্জয় বি গ্রামের বাসিন্দাদের সহযোগিতায় বাংলাদেশের কুমিল্লার বাসিন্দা মেহফুজ রহমান নামের একজন আটক করে পুলিশ। সেদিনই বিএসএফ এবং পুলিশের যৌথ চিরুনি তল্লাশিতে ধরা পরে আরও তিনজন।
এরপরের দিন, রবিবার গ্রামবাসীরা মোবারক হুসেইন নামে এক বাংলাদেশিকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মোবারকের বাড়ি বাংলাদেশের সুনামগঞ্জে।
এছাড়া যৌথ তল্লাশির মধ্যেই সোমবার কাইঠাকোনা গ্রামের বাসিন্দারা আকরাম নামে আরেক ডাকাতকে ধরে মারধরের পর বিএসএফএর হাতে তুলে দেয়। তাকে হাসপাতালে নেওযার পর আকরাম মারা যায়। তার বাড়ি শেরপুরে।
