এসবিবাংলা নিউজ ডেস্ক।।

এবার ভারতে বসে বাংলাদেশের আলোচিত ব্যবসায়ী এস আলমের সঙ্গে শেখ হাসিনা গোপন বৈঠক করেছেন বলে খবর বেড়িয়েছে কয়েকটি গণমাধ্যমে। বর্তমান সরকার সমর্থিত দুটি পত্রিকায় সম্প্রতি এ খবর প্রকাশের পর সারাদেশে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। খবরে বলা হয়, তুমুল আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। এরপর ক্ষমতায় ফিরতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি শেখ হাসিনা ও এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ দিল্লিতে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। খবরে বলা হয়, ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার কৌশল নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন। তবে ওই বৈঠকের সূত্র কী বা কীভাবে এই খবর সত্য বলে ধরা হতে পারে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কারো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি ওই খবরে।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে জানানো হয়, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় ফেরাতে শেখ হাসিনাকে ২৫০০ কোটি টাকা হস্তান্তর ও আরো দুই হাজার কোটি টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এসেছেন এস আলম। এছাড়া বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে হটাতে বিভিন্ন নাশকতার ছক তৈরি করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয় ওই খবরে। বিভিন্ন দেশে পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, আমলা, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের সাবেক কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিক কূটকৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। আর এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দলীয় ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।
বিশ্বস্ত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে যে, পবিত্র ওমরাহ পালন করার দোহাই দিলেও সাইফুল আলম মাসুদের মক্কায় যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি সেখানে যান দেশ থেকে পালানো আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। মক্কার ফেয়ারমন্ট হোটেলে বসে তিনি পলাতক আওয়ামী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দেশ থেকে পাচার করা অর্থের বিনিময়ে মক্কায় একটি বিলাসবহুল হোটেল কেনার উদ্দেশ্যে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গেও জরুরি মিটিং করেন এস আলম।
মক্কায় পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে দেশবিরোধী বিভিন্ন পরিকল্পনা সাজানো শেষে ৪ আগস্ট মদিনায় গিয়ে ‘ইলাফ আল তাকওয়া’ হোটেলে ওঠেন এস আলম। সেখানে তিনি চট্টগ্রামের কয়েকজন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ব্যবসায়ীর সঙ্গে দেখা করে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। মক্কায় দুই দিন থেকে আরব আমিরাতের দুবাইতে বিলম্ব না করে ৬ আগস্ট বিশেষ ফ্লাইটে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে পৌঁছান এস আলম।
প্রকাশিত খবর অনুসারে, দিল্লি সফরে তার সঙ্গী ছিলেন স্ত্রী ফারজানা পারভীনসহ তাদের ছোট ছেলে ও ইসলামী ব্যাংকের সাবেক একজন চেয়ারম্যান। দিল্লিতে তারা ওঠেন পাঁচ তারকা হোটেল দি ওবেরেই নিউ দিল্লিতে। আর সেখানে তার সঙ্গে দেখা করেন পলাতক সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ অনেকে।
এস আলমের দিল্লি সফরের সবচেয়ে বড় অ্যাজেন্ডা ছিল স্বয়ং শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন মিটিং। ৮ আগস্ট দুপুরে হোটেলে এস আলম তার সব ফোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস রেখে একটি নম্বরপ্লেটহীন গাড়িতে রওনা করেন, আর পথে দুই-দুইবার পরিবর্তন করা হয় তাকে বহন করা গাড়ি। অবশেষে তাকে বহনকারী গাড়িটি পৌঁছায় হাসিনার বাসভবনে। সেখানে এস আলম বেলা ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত অবস্থান করেন।
এই সময়ে ভারতের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ওই বৈঠকে এস আলমের কাছে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা চান শেখ হাসিনা এবং এস আলম এই টাকা তাকে দিতে রাজি হন। এ অর্থ গ্রহণ, বিতরণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য তিনজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরা হলেন— জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
তবে সরকার সমর্থিত ওই গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যগুলো বিশ্বাসযোগ্য ভাবে লেখা হলেও এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি। না আছে কোনো ছবি, না আছে কারো বক্তব্য। তাই সচেতন অনেকে বলছেন, শেখ হাসিনা ও এস আলমের গোপন বৈঠকের এই খবর কল্পনা প্রসূত ঘটনা ছাড়া কিছুই নয়।
