
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
গত ১৮ অক্টোবর ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে হঠাৎ একের পর এক বড় বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি টিম সাত ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তাদের সঙ্গে অংশ নেয় সিভিল এভিয়েশন ও বিমান বাহিনীর ফায়ার ইউনিটও। এসময় উত্তরা এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে ৫ হাজারেরও বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এছাড়া উত্তরা বিভাগের ছয়টি থানার পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, র্যাব ও বিজিবির সদস্যরাও .সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড শুধু দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা এ ধরনের অসংখ্য প্রশ্ন তৈরি হয়েছেসেবার মধ্যে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নানা ধরনের নানা মন্তব্য দেখা গেছে। প্রভাবশালী ইউটিউবার পিনাকী ভট্টাচার্য তার ফেসবুকে লিখেছেন, যেই নাশকতা আর অন্তর্ঘাত শুরু হয়েছে, তার কোন কিছুই বিনা কারণে বা বিনা পরিকল্পনায় হচ্ছেনা। তিনি বলেছেন, বাঙ্গু এলিটেরা এই নাশকতার কী ব্যখ্যা দিবেন? কেন এইভাবে আগুন লাগছে? কেন সেই আগুন নিভানো যাচ্ছেনা দ্রুততার সাথে?
এর আগে গত ১৪ অক্টোবর মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুর এলাকার একটি পোশাক কারখানায় আগুনে পুড়ে ১৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। কারণ ওই কারখানার পাশেই একটি রাসায়নিক গুদামে আগুন নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। ওই আগুন লাগার ঘটনায় অনেকে অনেক কথা বললেও প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে রাসায়নিক গুদামের কারণে যে আগুন আরো বেড়ে গেছে, সে বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনার দুই দিন পর গত ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল কারখানার বড় ধরনের আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৭ ঘণ্টার বেশি সময় পর সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ওই ঘটনায় কারো মৃত্যু না ঘটলেও সাততলা ভবনটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই একই দিবাগত রাতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে একটি সুতার মিলে আগুনে কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ওইসব আগুনের রেশ কাটতে না কাটতেই এরই মধ্যে শনিবার ঢাকা বিমানবন্দরে আগুনের ঘটনা ঘটলো।
এ বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগুনের ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস টিম থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, “দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি সংঘটিত একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার তা গভীরভাবে অবগত”। আরো বলা হয়, সাম্প্রতিক এসব অগ্নিকাণ্ড ‘নাশকতা হিসেবে প্রমাণিত’ হলে অথবা ‘আতঙ্ক বা বিভাজন সৃষ্টির’ লক্ষ্যে ঘটানো হচ্ছে বলে প্রমাণ পেলে সেগুলো ‘মোকাবিলা’ করা হবে। তবে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে এসব অগ্নিকাণ্ডের কোনো কারণ এখন পর্যন্ত জানানো হয়নি।
এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগার ঘটনা দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, স্বৈরাচারের দোসরদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনতে না পারা অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম বড় ব্যর্থতা, যার ফল বাংলাদেশকে দীর্ঘ মেয়াদে ভোগ করতে হবে।
