আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আরেকটি নতুন লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে। এর ফলে আগামী পাঁচদিন সারা দেশে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এটি এখন ভারতের তামিলনাড়ু ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এই লঘুচাপটি আরও পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ধীরে ধীরে গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে। তবে এর প্রভাবে আবারও একটি নতুন লঘুচাপ তৈরি হতে পারে, যা সপ্তাহের শেষদিকে বাংলাদেশের উপকূলীয় আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।

বৃহস্পতিবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন— শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের দু-একটি স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। দেশের অন্যত্র আকাশ আংশিক মেঘলা ও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, যা শীতের আগমনী বার্তা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত দেশের বেশিরভাগ স্থানে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। তবে চট্টগ্রাম, রংপুর ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। রবিবার ও সোমবার একই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে, তবে দক্ষিণাঞ্চলে হালকা গরম অনুভূত হতে পারে।
এদিকে, সমুদ্র বন্দরগুলোকে এখনই কোনো সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়নি, তবে মৎস্যজীবীদেরকে দূর সমুদ্রে না যেতে পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। নতুন লঘুচাপটি তৈরি হলে সাগরে বাতাসের গতি বৃদ্ধি এবং ঢেউয়ের উচ্চতা বাড়তে পারে।

বঙ্গোপসাগরের তাপমাত্রা বর্তমানে স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বেশি, যা নতুন লঘুচাপ গঠনে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের মতো সিস্টেম তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
সব মিলিয়ে, আগামী সপ্তাহে দেশের আকাশে থাকবে আংশিক মেঘলা পরিবেশ, দক্ষিণাঞ্চলে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি, আর উত্তরাঞ্চলে থাকবে ঠান্ডা হাওয়ার আমেজ। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনই জানিয়ে দিচ্ছে— দরজায় কড়া নাড়ছে শীতকাল।
