
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য চলতি অক্টোবর মাসের মধ্যেই বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, ২০০ আসনে প্রার্থী বাছাই করে তাদের সবুজ সংকেত দেওয়া হবে। যাতে নির্বাচনী মাঠে প্রার্থী হিসেবে তারা আগে ভাগেই কাজ শুরু করতে পারে।’ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সালাহউদ্দিন আহমদ আরো জানান, বিভিন্ন আসনে বিএনপির সিনিয়র ও জনপ্রিয় নেতারা একক প্রার্থী হবেন আর কিছু আসনে মিত্রদেরও ছাড় দেওয়া হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নাম ঘোষণা করা হবে তফশিলের পর।
তবে এরই মধ্যে বিএনপির অনেক লোক এলাকায় গিয়ে নেতা সেজে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনের সময় যেমন প্রার্থীরা জনদরদী হয়ে মানুষের সুখ-দু:খের কথা শুনছেন, নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন পাশাপাশি তিনিই দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করছেন ভোটারদের কাছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, বিএনপির মনোনয়ন দাতা তারেক রহমানের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তিনি তাকে মনোনয়ন দেওয়ার চূড়ান্ত আশ্বাস দিয়েছেন বলেও এলাকায় বলে বেড়াচ্ছেন।
তবে বাস্তবতা হচ্ছে- নির্বাচনী মাঠে পয়সাওয়ালা অনেকেই বিগত দিনের মতো এলাকায় গিয়ে ভোটের ধান্দা করছেন । যদিও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমান্ড তাদের বিষয়ে ভাবা তো দূরের কথা, কিছু জানেও না। এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিনরাতই কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। এটি নতুন কিছু নয়। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। নির্বাচনের আগে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা হওয়াই স্বাভাবিক।’ তার মানে এই নয় যে, তিনি সবাইকে মনোনয়ন দিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এরই মধ্যে দৈনিক যুগান্তরের খবরে বলা হয়েছে, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (কুমিল্লা-১), মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ঠাকুরগাঁও-১), মির্জা আব্বাস (ঢাকা-৮), গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ঢাকা-৩), ড. আব্দুল মঈন খান (নরসিংদী-২), ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু (সিরাজগঞ্জ-২), সালাহউদ্দিন আহমদ (কক্সবাজার-১), মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ (ভোলা-৩) বরকতউল্লা বুলু (নোয়াখালী-৩), মো. শাহজাহান (নোয়াখালী-৪), শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি (লক্ষ্মীপুর-৩), মিয়া নুরুউদ্দিন অপু (শরীয়তপুর-৩), আসাদুল হাবিব দুলু (লালমনিরহাট-৩), অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (যশোর-৩), রশিদুজ্জামান মিল্লাত (জামালপুর-১), রকিবুল ইসলাম বকুল (খুলনা-৩), ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (নেত্রকোনা-১), মাহমুদ হাসান খান (চুয়াডাঙ্গা-২), ফজলুল হক মিলন (গাজীপুর-৫), আমিরুল ইসলাম খান আলীম (সিরাজগঞ্জ-৫), আমিনুল হক (ঢাকা-১৬), লুৎফুজ্জামান বাবর (নেত্রকোনা-৪), ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির (পঞ্চগড়-১), সাইফুল ইসলাম ফিরোজ (ঝিনাইদহ-৪)-সহ অন্তত ৬০টি আসন নিয়ে নির্ভার বিএনপি। মূলত এর বাইরে অন্য আসনগুলোয় একক প্রার্থী চূড়ান্ত করছে দলটি।
এদিকে রাজনৈতিক সচেতনরা বলছেন, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে গিয়ে আদায় জল খেয়ে কাজ শুরু করলেও শেষমেষ অনেকেরই প্রত্যাশা পূর্ণ হবে না। কারণ জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সঙ্গে বিএনপির জোট বাঁধার আলোচনা চলছে। কৌশলগত কারণে এখন যদি এনসিপি ও বিএনপি জোটবদ্ধ হয়, তবে অনেক আসনেই এনসিপির প্রার্থীদের কাছে বিএনপির প্রার্থীরা বঞ্চিত হবেন।
এ অবস্থায় নির্বাচনে কোউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে বিএনপি কী ব্যবস্থা নেবে —এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,‘ আশা করি কেউ দাঁড়াবে না। তারপরও কেউ দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
