
আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হলো পাকিস্তান ও আফগান তালেবান সরকারের মধ্যে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত চারদিনব্যাপী শান্তি আলোচনা। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আলোচনা কার্যকর কোনো সমাধানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের জনগণের সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইসলামাবাদ।
২৯ অক্টোবর বুধবার ভোরে সাবেক টুইটার এক্স-এ দেওয়া পোস্টে তারার লিখেছেন, চার দিনব্যাপী এই সংলাপ কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি।
একসময়ের মিত্র পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিক্ততায় গড়িয়েছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তান পাকিস্তানবিরোধী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেয়। এই জঙ্গিরা পাকিস্তানে ঢুকে হামলা চালায়।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আফগানিস্তানের দিক থেকে কোনো ভালো আশ্বাস পাওয়া যায়নি। তারা মূল বিষয় থেকে সরে গেছে এবং দোষারোপ ও ছলচাতুরী করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে আলোচনায় কোনো কার্যকর সমাধান পৌছানো যায়নি।’
গত ৯ অক্টোবর কাবুলে বিস্ফোরণের ঘটনায় তালেবান কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানকে দায়ী করে আফগানিস্তান। এরপরই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক সীমান্ত সংঘাত শুরু হয়।
প্রাথমিকভাবে ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর, ১৯ অক্টোবর দোহায় আলোচনার মাধ্যমে দ্বিতীয় দফায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। পরে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে ইস্তাম্বুলে আলোচনার আয়োজন করা হয়।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার আরো বলেছেন, কাবুলে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তান বারবার তাদের সঙ্গে সীমান্তবর্তী সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আলোচনা করেছে — যা ভারত-সমর্থিত ফিতনা আল খারিজ (টিটিপি) ও ফিতনা আল হিন্দুস্তান (বিএলএ)-এর কর্মকাণ্ডের ফল।
তার ভাষায়, আফগান তালেবান সরকারের অব্যাহত সন্ত্রাসী সমর্থনের কারণে পাকিস্তানের আন্তরিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তালেবান সরকার আফগান জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা দেখায় না; বরং যুদ্ধভিত্তিক অর্থনীতিতেই তারা টিকে আছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তালেবান সরকার চায় আফগান জনগণকে অপ্রয়োজনীয় এক যুদ্ধে জড়িয়ে রাখতে। অথচ পাকিস্তান সবসময় আফগানিস্তানের শান্তি ও সমৃদ্ধির পক্ষে থেকেছে এবং এজন্য বিপুল ত্যাগ স্বীকার করেছে।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, চার বছর ধরে মানুষ ও সম্পদের এত ক্ষয়ক্ষতির পর পাকিস্তানের ধৈর্য এখন শেষ সীমায় পৌঁছেছে।
মন্ত্রী জানান, পাকিস্তান দোহা ও পরে ইস্তাম্বুলের আলোচনায় অংশ নিয়েছিল শান্তিকে সুযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে, কাতার ও তুরস্কের অনুরোধে।
তারার দাবি করেন, পাকিস্তান যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেছিল যে আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানবিরোধী সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানো হচ্ছে ।
তবে এ বিষয়ে আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
