
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
আওয়ামী লীগের ডাকা ১৩ নভেম্বরের লকডাউন জুড়ে এ দিন সকাল থেকেই গোটা ঢাকা ও এর আশপাশের শহর ছিল কড়া নিরাপত্তায় ঢাকা। নাশকতার আশঙ্কায় রাত থেকেই কয়েক লাখ নিরাপত্তা কর্মী ও সেনাবাহিনী বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অবস্থান নেয়। এর আগে ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গোপালগঞ্জে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত পাঁচটি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়। দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বর ডিওএইচএসের সামনে থেমে থাকা একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিভিয়ে ফেলে। এছাড়া বৃহস্পতিবার সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকা থেকে ‘সন্দেহভাজন’ এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। মিরপুর-১৪ নম্বর থেকে দুটি ককটেলসহ এক যুবককে আটক করা হয়। অন্যদিকে গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শরীয়তপুর ও কুড়িগ্রাম থেকে নাশকতার চেষ্টা ও নাশকতায় জড়িত অভিযোগে ৩৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আইনজীবী এবং সাংবাদিকদেরও চেক করে ট্রাইব্যুনালের গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করানো হয়।
রায়ের তারিখ ঘোষণা ও আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে যেকোনো নাশকতা ঠেকাতে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ডিএমপির ১৭ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর বাইরে মোতায়েন থাকছে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরাও।
বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার রায় দেওয়ার জন্য ১৭ নভেম্বর তারিখ ধার্য করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন। দিনটি ঘিরে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কার্যক্রম আওয়ামী লীগ।
এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বুধবার থেকেই ঢাকার প্রবেশপথগুলোয় বিভিন্ন চেকপোস্টে গণপরিবহন আর সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া রাতভর ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও মেসে চলে তল্লাশি। এছাড়া রাস্তায় সাধারণ মানুষের চলাচল ও যানবাহনের সংখ্যাও ছিল অন্যান্য দিনের তুলনায় হাতেগোনা। বেশ কয়েকজন পথচারী সাংবাদিকদের বলেছেন, রাস্তাঘাটে পুলিশ সেনাবাহিনী ও বিজিবির উপস্থিতি এতই বেশি ছিল যে, দেখে কারফিউর মতো মনে হয়েছে।
এদিকে লকডাউন কর্মসূচি কেন্দ্র করে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক ও বরিশাল মহাসড়কের একাধিক স্থানে অবরোধ করেন আওয়ামী লীগের কয়েকশো নেতা-কর্মী। ১৩ নভেম্বর ভোর থেকেই সুয়াদি, পুখুরিয়া ও পুলিয়া এলাকায় ঢাল, তলোয়ার শরকি, রামদা, কাটরা, টেটাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বরগুনায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া জেলার বেশ কয়েকটি স্থানে আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালানো হয়।
