নিজস্ব প্রতিবেদক।।

গত ২১ নভেম্বর শুক্রবার ছুটির দিনে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকাসহ সারাদেশে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নরসিংদীতে ৫ জন, ঢাকায় ৪ জন এবং নারায়ণগঞ্জে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় আহত হয়েছেন ছয়শোরও বেশি। তাদেরকে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুর জেলায়ই আহত হয়েছেন ২৫২ জন। একক জেলা বিবেচনায় এই সংখ্যা সব থেকে বেশি বলেও জানান এই বিশেষজ্ঞ।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাফিউল ইসলাম, ব্যবসায়ী আবদুর রহিম, তাঁর ১২ বছর বয়সী ছেলে আবদুল আজিজ রিমন এবং নিরাপত্তাকর্মী মাকসুদ। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নিহত হয় ১০ মাস বয়সী ফাতেমা; নরসিংদীতে ১০ বছরের শিশু ওমর ফারুক এবং তার বাবা দেলোয়ার হোসেন। এছাড়া, ফোরকান মিয়া, ৭৫ বছর বয়সী কাজম আলী ও নাসির উদ্দীন।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে অনুভূত এ ভূমিকম্প দেশের ইতিহাসে স্মরণকালের সবচেয়ে বড়। তিনি আরো বলেন, আজকের ভূমিকম্প এত বড় ঝাঁকুনি ও শক্তিশালী হওয়ার কারণ হলো দেশের পূর্ব প্রান্তটা হচ্ছে বার্মা প্লেট ও পশ্চিমটা হচ্ছে ইন্ডিয়ান প্লেট। এই সংযোগস্থলে ভূমিকম্প হয়েছে। এই সংযোগটা এতদিন আটকে ছিল। এখন এই সংযোগটা আজকে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে খুলে গেছে। অর্থাৎ লকটা খুলে গেছে। তাই এখন ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এই ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, এই অঞ্চলে যে বড় ধরনের ভূমিকম্প হবে, ২০১৬ সাল থেকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ৮ মাত্রাশক্তির ভূমিকম্প এখানো জমা হয়ে আছে। সেই শক্তির সামান্য অংশ শুক্রবার বের হলো।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির বলেছেন, বিগত কয়েক দশকেও ঢাকা এবং এর আশপাশে আর কখনোই হয়নি। তাই এটাই সর্বোচ্চ শক্তিশালী ও সর্বোচ্চ মাত্রার। এই সময়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ৪ থেকে ৫ মাত্রার সামান্য বেশি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে এগুলোর উৎপত্তিস্থল দেশের বাইরে।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার আরো বলেন, ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলে একাধিক বড় ভূমিকম্প হয়েছে, যা প্রমাণ করে এটি ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। যে কোনো সময় বাংলাদেশে আরও বড় ভূমিকম্প হতে পারে। ঠিক কবে হবে সেটা বলা যাচ্ছে না।
দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসাইন ভূইয়া। জাগো নিউজকে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ভূগঠন মূলত নরম শিলা দিয়ে তৈরি। তাই নিম্ন ফ্রিকোয়েন্সি ও উচ্চ অ্যাম্পলিচিউডের ভূমিকম্প হলে ক্ষতি বেশি হয়। ভূমিকম্পের কম্পন মাটির নিজস্ব কম্পাঙ্ক ও ভবনের কম্পাঙ্ক একসাথে মিলে গেলে তা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, পৃথিবীতে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৫০টি ছোট মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে। এক থেকে তিন মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত টের পাওয়া যায় না। কিন্তু চার বা তার ওপরে হলে মানুষ তা অনুভব করতে পারে এবং ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়।
