
এসবি বাংলা নিউজ ডেস্ক।।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক কোন নারী বা পুরুষ অন্য দেশের কাউকে বিয়ে করে স্বামী বা স্ত্রী বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যারা সংসার পেতে জীবন চালিয়ে আসছেন, এবার তাদের জন্যও অশনি সংকেত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এনবিসি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করা মার্কিন নাগরিকদের স্ত্রী-স্বামীরাও এখন ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। কারণ, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপে অভিবাসন অফিসে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে অনেক আবেদনকারী গ্রেপ্তার হচ্ছেন।
আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের কয়েক দশকের রীতিনীতিকে ভেঙে দিয়েছে। যদিও সরকারের দাবি, যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তাদের ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আইনজীবীরা বলছেন, এটা আগে সমস্যা ছিল না।
সান ডিয়েগো, নিউইয়র্ক, ক্লিভল্যান্ড ও ইউটাহসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গ্রিন কার্ড সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হওয়া আবেদনকারীদের
হঠাৎই আটক করছেই মিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট- আইছ এজেন্টরা।
এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হচ্ছে-“এরা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে অবস্থান করছিলেন।” কিন্তু অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন,
“এটা আগে কখনো সমস্যা ছিল না। মার্কিন নাগরিকদের স্ত্রী-স্বামীরা ভিসার মেয়াদ শেষ করলেও কংগ্রেস অনুমোদিত ব্যতিক্রম অনুযায়ী
তাঁরা গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারতেন।”
এদিকে এ ঘটনায় আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন —এক শিশুকে কোলে নেওয়া ব্রিটিশ মা, এক ইউক্রেনীয় নারী শরণার্থী,
এক নৌবাহিনীর সাবেক সদস্যের স্ত্রী, এবং এক জার্মান নাগরিক, যিনি প্রথম বিবাহবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
সান ডিয়েগোর এক আইনজীবী জ্যান জোসেফ বেজার বলেন, “যদি এই ধরনের গ্রেপ্তার সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে, এটি ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। এটি হবে বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর বড় আঘাত।”
খবরে বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকের স্ত্রী বা স্বামী গ্রিন কার্ডের বৈধ আবেদন করতে পারেন — যদিও তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের আইনে “ইমিডিয়েট রিলেটিভ এক্সসেপশন” নামে স্বীকৃত।
অভিবাসন নীতি বিশেষজ্ঞ জুলিয়া গেলাট বলেন, “মানুষ আইন মেনেই আবেদন করছে। এখন তাদের গ্রেপ্তার করা মানে পুরো প্রক্রিয়াটিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা।”
সান ডিয়েগোতে এক মেক্সিকান যুবক, যিনি মার্কিন নাগরিক নারীর স্বামী। তিনি গ্রিন কার্ড সাক্ষাৎকারে অংশ নিচ্ছিলেন। অফিসার ইতিবাচক মন্তব্য করার পর হঠাৎই আইস এজেন্টরা ঘরে ঢুকে তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায়।
আইনজীবী বেজার বলেন, “যে মানুষটি আইন মেনে সব ধাপ সম্পন্ন করেছে , সরকারকে ফি দিয়েছে, আইনজীবীর ফি দিয়েছে—
সাক্ষাৎকারের সময় তাকে গ্রেপ্তার করা অন্যায়। আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা শেভ দালাল বলেন, অভিবাসন আদালতের জটিল প্রক্রিয়া অনুযায়ী, এই গ্রেপ্তারের ফলে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের মামলাগুলো আরও বিলম্বিত হবে, যা সরকারের খরচও বাড়াবে।
তিনি আরো বলেন, যে মানুষরা বৈধ পথে আবেদন করছে, তাদের গ্রেপ্তার করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এভাবে প্রশাসনের সম্পদ অপচয় হচ্ছে।”
তার “সহিংস অপরাধীদের বদলে তারা ধরছে সেই মানুষদের, যারা আইনের সব নিয়ম মেনে নাগরিকত্ব পেতে চায়।”
ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে এক মেক্সিকান নারীকে গ্রিন কার্ড সাক্ষাৎকারে গ্রেপ্তার করা হয়, যদিও তিনি ২৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং কোনো অপরাধ রেকর্ড নেই। তাঁর স্বামী জেরেমি লয়ার বলেন, “আমাদের সাক্ষাৎকার ভালোই চলছিল। আমরা ভেবেছিলাম সব ঠিক আছে।
কিন্তু হঠাৎ আইস এজেন্টরা ঢুকে পড়ল। আমি অবাক হয়ে গেলাম — এটি যেন আগেই পরিকল্পনা করা ছিল।”
অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ায় থাকা শত শত হাজার আবেদনকারী এই নতুন নীতির ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
এতে শুধু মানুষ নয়, মার্কিন বিচারব্যবস্থা ও করদাতার টাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
