4 indicted after Minneapolis clashes

যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত গত শুক্রবার এক ঐতিহাসিক আদেশে জানিয়েছে, থ্যাঙ্কসগিভিং ছুটির সময় ভুলবশত হণ্ডুরাসে পাঠিয়ে দেওয়া ১৯ বছর বয়সী কলেজ শিক্ষার্থী অ্যানি লুসিয়া লোপেজ বেলোজাকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনতে হবে। বোস্টনের ডিস্ট্রিক্ট জজ রিচার্ড স্টার্নস এই আদেশ জারি করেন, যেখানে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ নাগাদ তাকে ফিরিয়ে আনার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
ম্যাসাচুসেটসের ব্যাবসন কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী অ্যানি গত ২০ নভেম্বর বোস্টন বিমানবন্দর থেকে টেক্সাসে নিজের বাড়িতে যাওয়ার সময় আটক হন। দুই দিন পরেই তাকে হণ্ডুরাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ট্রাম্প প্রশাসন পরবর্তীতে ভুলবশত তাকে বহিষ্কারের বিষয়টি স্বীকার করলেও তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বিচারক স্টার্নস তার রায়ে উল্লেখ করেন, প্রশাসন সমাধান দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
বিচারক তার পর্যবেক্ষণে বলেন, কোনো ব্যক্তির আইনি অধিকার এবং বহিষ্কারের বৈধতা নির্ধারণ করার দায়িত্ব আদালতের, প্রশাসনের নয়। অ্যানির আইনজীবী টড পোমার্লো এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “অ্যানি একজন অত্যন্ত ধৈর্যশীল এবং মেধাবী তরুণী। আমরা আদালতের এই সিদ্ধান্তে আনন্দিত। যারা তার এই লড়াইয়ে পাশে ছিলেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।”
মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বিগত দিনে সরকারি নথিতে অ্যানির বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই। হণ্ডুরাসে গিয়েও তিনি ভেঙে পড়েননি, বরং সেখান থেকেই অনলাইনে বিজনেস ডিগ্রির পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার আইনজীবী টড পোমার্লো জানিয়েছেন, এটি কেবল অ্যানির জয় নয়, এটি ন্যায়ের জয়। ব্যাবসন কলেজ কর্তৃপক্ষও তাদের এই মেধাবী ছাত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস আরও জানাচ্ছে, এই ঘটনাটি মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার এমন এক দুর্বলতা সামনে এনেছে যেখানে একজন বৈধ ছাত্রকেও আইনি সহায়তা ছাড়াই দেশছাড়া করা সম্ভব।
এদিকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, লোপেজ বেলোজার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালেই বহিষ্কারের আদেশ ছিল এবং তিনি আপিল করার একাধিক সুযোগ হারিয়েছেন। তবে ১৯ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তার আগের আইনজীবী তাকে জানিয়েছিলেন যে তার নামে কোনো বহিষ্কারাদেশ নেই। দীর্ঘ ১০ বছর পর হণ্ডুরাসে ফিরে গিয়ে বর্তমানে তিনি তার দাদা-দাদির কাছে থাকছেন এবং সেখান থেকেই অনলাইনের মাধ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং এপি নিউজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাবসন কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের এই মেধাবী ছাত্রীকে সব ধরনের একাডেমিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন এবং প্রশাসনিক ভুলের কারণে শিক্ষার্থীদের হয়রানির বিষয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
