এসবি বাংলা নিউজ ডেস্ক।।

অ্যাডলফ হিটলারের নাম জীবনে সবাই একবার হলেও শুনেছেন নিশ্চয়ই। তিনি ছিলেন জার্মানির চ্যান্সেলর ও স্বৈরশাসক। তাঁর মৃত্যুর অনেক পরেও কোটি কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। যা তিনি তার জীবদ্দশায় অছিয়ত করে বলেছিলেন, আমার যা কিছু আছে এবং যদি এর কোনো মূল্য থেকে থাকে, তবে তা সবই দলের কাছে যাবে। যদি দলটি আর না থাকে তবে তা সরকারের কাছে যাবে। আর যদি সরকারও ধ্বংস হয়ে যায়, তবে আমার সিদ্ধান্তের কোনো প্রয়োজন নেই।" কিন্তু এই উইলে তার সম্পদ সম্পর্কে খুব বেশি বিবরণ ছিল না।
এই লেখাই ছিল হিটলারের শেষ ইচ্ছার একটি অংশ। যা তিনি ১৯৪৫ সালের ২৯ এপ্রিল ভোর ৪টায় বার্লিনে তার রাজনৈতিক উইলের সাথে একটি পৃথক কাগজে লিখেছি স্বাক্ষর করেছিলেন। আর এর পরের দিনই অর্থাৎ ১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল স্বেচ্ছায় প্রাণত্যাগ করেন হিটলার।
হিটলারের সম্পদের হিসাব করা এত সহজ ছিল না। তার সম্পত্তির হিসাব করার জন্য বিভিন্ন গবেষণা,ও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল।
ক্রিস হুইটন নামের এক লেখক এ বিষয়ে অনেক গবেষণা করে ২০০৫ সালে হিটলারের সম্পদের বিবরণ দিয়ে একটি বই প্রকাশ করেছিলেন।
মৃত্যুর ছয় দিন আগেও ইউরোপের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিলেন হিটলার। ধারণা করা হয়, ২০০৩ সালে ইউরোর ওই সময়ের মানের হিসাবে তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১.৩৫ বিলিয়ন থেকে ৪৩.৫ বিলিয়ন। ডলার ও পাউন্ডের হিসাবে এই অংক আরও বেশি। তার বিভিন্ন সম্পত্তির মূল্যের বিশাল পার্থক্যও এটা তুলে ধরে যে হিটলারের সম্পদের হিসাব করা কতটা কঠিন ছিল।
বিষয়-সম্পত্তির হিসাব বের করার আরেকটি বড় সমস্যা ছিল যে, তার মালিকানাধীন সম্পদ সম্পর্কে কোনো নথি ছিল না, এমনকি তাদের সম্পদ কোথায় ছিল, তাও জানা যায়নি।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা তদন্তের সময় কিছু নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হিটলারের ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের অর্থের খোঁজ মিলেছে। যা কয়েক দশক পরে গোপন নথিতে প্রকাশিত তথ্যে উঠে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে, সুইজারল্যান্ডে কিছু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে, যা হিটলারের বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই হিটলারের আর্থিক বিষয় সম্পর্কে বিভিন্ন পক্ষ একমত, এরকম আরও কিছু তথ্য পাওয়া যায়।
মৃত্যুর সময় জার্মানির মিউনিখে একটি অ্যাপার্টমেন্ট এবং ব্যাভারিয়ান আল্পসে একটি বাড়ি ছিল হিটলারের। বই পড়তে বেশি ভালো বাসতেন হিটলার। তাই জীবনে বহু বই উপহারও পেয়েছেন তিনি। নিজেও মাইন কাম্ফ- বাংলায় যার অর্থ 'আমার সংগ্রাম' নামের একটি বই লিখে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন হিটলার। এক বছরেই বইটির দশ লাখ কপি বিক্রি হয়েছিল। তবে এই বই থেকে বহু টাকা উপার্জন করলেও সরকারি কোষাগারে একটি টাকাও কর দিতেন না তিনি।
হিটলারের আত্মহত্যার পর নাৎসিরা পরাজিত হয় এবং মিত্রশক্তি হিটলারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে। জনসাধারণের সামনে হিটলারের জীবনযাপন মোটেও বিলাসবহুল ছিল না। বরং তিনি মানুষকে দেখিয়েছিলেন যে, তার কাছে টাকা-পয়সা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।
