নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

এক সময় বাংলাদেশের আইজিপি হিসেবে তাঁর নির্দেশেই চলতো পুলিশের সব কার্যক্রম। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! এখন দণ্ড পেয়ে কারাগারে সাধারণ বন্দীদের মতো জীবন কাটছে তার। বলছি শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৫ বছরের সাজা পাওয়া সাবেক আইজিপি ও রাজসাক্ষী চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের কথা। আগে কারাগারে তাকে ডিভিশন দেওয়া হতো। কিন্তু দণ্ড পাওয়ার পর কারাবিধি অনুযায়ী সেই সুবিধা বাতিল হয়ে গেছে। এখন তাকে থাকতে হচ্ছে সাধারণ কয়েদিদের মতো। তিনি ডিভিশন ২-এর সুবিধা পেলেও তাকে পরতে হবে কয়েদি পোশাকও।
কারা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে দৈনিক সমকালে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ডিভিশন-১-এ থাকা কোনো বন্দির সাজা হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাকে ডিভিশন-২-এর আওতায় নিতে হয়। সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির পুনরায় ডিভিশন-১ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই। সাবেক আইজিপি মামুন এখন তার ডিভিশন সুবিধা বলবৎ থাকার ব্যাপারে আবেদন করতে পারেন। এতে সরকার অনুমোদন দিলে তিনি ডিভিশন-২ সুবিধা পাবেন। আর অনুমোদন না দিলে সাধারণ কয়েদি হিসেবে থাকতে হবে।
কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন জানিয়েছেন, বিচারাধীন মামলায় কারাবন্দিদের সামাজিক সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে ডিভিশন সুবিধা দেওয়া হয়। কারাবিধি অনুযায়ী তিন ধরনের ডিভিশন থাকে। ডিভিশন-১, ডিভিশন-২ ও ডিভিশন-৩। সরকারের প্রকাশিত ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের ১
থেকে ১৮ নম্বর পর্যন্ত অবস্থানে ছিলেন এমন ব্যক্তিরা প্রথম শ্রেণির বন্দি হিসেবে ডিভিশন পান। এ ছাড়া বীরউত্তম, বীরবিক্রম, বীরপ্রতীক মর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, সিআইপি, স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি, প্রফেসর অব ইমেরিটাস নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা ডিভিশন-১ পান। আর সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষা এবং অভ্যাসের কারণে জীবনযাপনের ধরন বিবেচনা করে অন্য উচ্চমানের বন্দিদের ডিভিশন-২ দেওয়া হয়।
মামুনের আইনজীবী জায়েদ বিন আযাদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আরও একটি মামলা তদন্তাধীন। এ ছাড়া বিভিন্ন আদালত ও থানায় তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা হয়েছে
খবরে বলা হয়েছে- পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলার আসামি ডিএমপির সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদ। তার বিরুদ্ধে মামলা আছে অন্তত ১৭৫টি।
বাংলাদেশ পুলিশের ২৯তম মহাপরিদর্শক ছিলেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। ১৯৮২ সালে বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন তিনি। ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি পুলিশ মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
