
আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
প্রথমে ইসরায়েল-গাজা, পরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের পর সীমিত সময়ের জন্য যুদ্ধে জড়িয়েছিল ভারত-পাকিস্তান। সেই খেলাে শেষ হতে না হতেই এবার খবর এলো প্রতিবেশী দুই দেশ থাইল্যান্ডের সঙ্গে কম্বোডিয়ার যুদ্ধের।
সীমান্ত নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান দিয়ে কম্বোডিয়ায় হামলা চালাল থাইল্যান্ড। এতে থাইল্যান্ডে এক শিশু ও সেনাবাহিনীর এক সদস্যসহ অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ২৪ জুলাই বৃহস্পতিবার মধ্যে পাল্টাপাল্টি এ হামলা শুরু হয়।
থাইল্যান্ড সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হতাহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। তবে এই সংঘর্ষে কম্বোডিয়ায় কেউ মারা গেছে কি না, বা সেদেশে কী ধরনের ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো কিছু জানায়নি। তবে দুই পক্ষের মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে গুলি বিনিময় হয়। দুই পক্ষেরই দাবি যে অপর পক্ষ প্রথমে গুলি চালিয়েছে।
একদিকে থাইল্যান্ড অভিযোগ তোলে কম্বোডিয়া তাদের লক্ষ্য করে রকেট নিক্ষেপ করছে। অন্যদিকে, কম্বোডিয়া অভিযোগ করে দাবি করেছে যে, ব্যাংকক তাদের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে। আর এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে সংকট আরো প্রবল হয়ে উঠেছে।
এ ঘটনার পর থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুই দেশই সীমান্ত অঞ্চল থেকে নিজেদের নাগরিকদের অন্যত্র চলে জাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। থাইল্যান্ড অবশ্য ইতোমধ্যে ৪০ হাজার বেসামরিক নাগরিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে থাই নাগরিকদের কম্বোডিয়ায় ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে থাইল্যান্ডের দূতাবাস।
কীভাবে দু’দেশের সংঘাত শুরু হয়:

কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গল’ নামে পরিচিত সীমান্ত নিয়ে বহু বছর ধরে বিরোধ চলছে। এই অঞ্চলে ১১ শতকের একটি মন্দির নিয়ে ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড শত্রুতা শুরু হয়। এরপর বছরের পর বছর ধরে এ নিয়ে দু দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘাতে একাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সীমান্তে তা মোয়ান থম নামের একটি মন্দিরের কাছে বৃহস্পতিবার দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি হয়। সংঘাত শুরুর জন্য একে অপরের ওপর দোষারোপ করছে তারা। থাইল্যান্ডের দাবি, সীমান্তের কাছে তাদের বাহিনীর ওপর কম্বোডিয়া নজরদারি করতে ড্রোন মোতায়েনের জেরে সংঘাত শুরু হয়েছে। আর কম্বোডিয়ার দাবি, চুক্তি লঙ্ঘন করে ওই মন্দিরের দিকে অগ্রসর হয়েছিল থাই বাহিনী।
সংঘাত শুরুর পর থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসন করতে হবে। এ কথার জবাবে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত বলেছেন, তাঁর দেশও শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। তবে সামরিক ‘আগ্রাসনের’ জবাব সামরিকভাবেই দিতে । এমন পরিস্থিতিতে দুই পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
