
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
বাংলাদেশে যখন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই বার্তা পাওয়া গেল কোলকাতা শিঘ্রই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।
জানা গেছে, বাংলাদেশে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে তিনটি ধাপে দেশে ও দেশের বাইরে সংগঠিত হয়ে কাজ করবে দলটি। প্রথম ধাপের অংশ হিসেবে আগস্ট থেকে আন্দোলনে নামতে তৃণমূলকে সংগঠিত করার দায়িত্ব পেয়েছে দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। গত ৭ আগস্ট বিকেলে দলের ছয় নেতার সাথে দিল্লিতে নিজ বাংলোতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে, গত ৩১শে জুলাই শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো দলটির ছয় শীর্ষ নেতার সাথে বৈঠক করেছিলেন। প্রথম দফায় বৈঠকে অংশ নেওয়া ছয় শীর্ষ নেতা ৬ আগস্ট কলকাতায় অবস্থানকারী আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিবিসি বাংলা অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, কলকাতার একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে দলীয় কার্যালয় খুলেছে আওয়ামী লীগ। যেখানে সাম্প্রতিক সময়ে বহু মানুষের যাতায়াত দেখা গেছে। এদের অনেকেই মাত্র এক বছর আগেও বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। স্থানীয়দের কাছে যারা অচেনা।
বিবিসির খবরে আরো বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পরের কয়েক মাসে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে যারা ভারতে অবস্থান করছেন, তারা নিজেদের মধ্যে ছোটখাটো বৈঠক বা দলীয় দফতরের কাজকর্ম চালাতেন নিজেদের বাসাবাড়িতেই।
বড় বৈঠকগুলি করা হতো রেস্তরা বা ব্যাঙ্কয়েট হল ভাড়া করে।
কোলকাতায় একটি বাণিজ্যিক ভবনে আওয়ামী লীগের অফিসটি বাইরে থেকে চেনার কোনো উপায় নেই। নেই কোনো সাইন বোর্ড, শেখ হাসিনা বা শেখ মুজিবের ছবিও। সেখানে এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেছেন, নিজেদের মধ্যে নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ ও বৈঠক করতে এমন একটা ঘর দরকার ছিল।
আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বিবিসিকে বলেছেন, দেশে,বিদেশে থাকা শুভাকাঙ্খীরাই তাদের খরচ চালাচ্ছেন।
খবরে আরো বলা হয়েছে, আ’লীগের বিভিন্ন পেশাজীবী, সরকারি কর্মচারী, পুলিশ কর্মকর্তা এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারাও চলে এসেছেন ভারতে। অন্তত ৭০ জন সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জেলার সভাপতি-সম্পাদক, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেয়রসহ শীর্ষ নেতৃত্বের প্রায় দুশো জন কলকাতা এবং এর আশপাশের অঞ্চলে থাকছেন। এদের কেউ সপরিবারে থাকেন, আবার কোথাও একসঙ্গে কয়েকজন মিলেও একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছেন। কারও পরিবার মাঝে মাঝে বাংলাদেশ থেকে এসেও কিছুদিন কাটিয়ে যান।
গত ৩১শে জুলাই শীর্ষ নেতৃত্বের কয়েকজনকে দিল্লিতে এক বৈঠকে ডেকেছিলেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা ওই বৈঠকের বিষয়টি বিবিসি বাংলার কাছে নিশ্চিত করেছিলেন। তবে বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, কোথায় বৈঠক হয়েছে, সে ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি ওই নেতারা।
কর্মীরা দেশে মার খাচ্ছেন, নেতারা কেন ভারতে এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতে থাকা আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ বলছেন, এই প্রশ্ন অযৌক্তিক নয়। কিন্তু বাস্তবতা হল, ১৯৭১ এ যদি তখনকার নেতৃত্ব ভারতে চলে এসে প্রবাসী সরকার গঠন না করতেন, তাহলে কী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনা করা সম্ভব হত? বাংলাদেশে ফেরা প্রসঙ্গে ওবায়েদুল কাদের বলছেন, "দিনক্ষণ ঠিক করে রাজনৈতিক লড়াই হয় না, আবার লড়াই ছাড়া উপায়ও নেই।"
এদিকে সরকারি সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের তৎপরতা বৃদ্ধির আশঙ্কা ও দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনা দলটির শীর্ষ নেতাদের সাথে বৈঠক করে যাচ্ছেন- এমন খবর গোয়েন্দারা আগে ভাগেই সরকারকে জানিয়ে রেখেছে। আর এ খবর সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকে চিন্তিত হয়ে পড়েছে সরকার। এ খবরে গত এক সপ্তাহে দলটির কমপক্ষে ১৬০০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিশেষ করে, ১৫ই আগস্ট যাতে কোন বড় ধরণের কর্মসূচি দলটি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।
