এসবিবাংলা নিউজ ডেস্ক।।

৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে জোর করে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর সময় সাগরের মধ্যে ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী রোহিঙ্গা শরণার্থীরা জানিয়েছে, দিল্লি থেকে তাদের আটক করে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। জাতিসংঘ বলেছে, ভারতের এই পদক্ষেপে রোহিঙ্গাদের জীবন ‘চরম ঝুঁকির’ মধ্যে পড়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, দিল্লি থেকে তাদের বিমানে বঙ্গোপসাগরের একটি দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে শেষে আন্দামান সাগরে ফেলে দেওয়ার পর তারা সাঁতরে তীরে ওঠেন। এখন তারা মিয়ানমারে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে।
ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে সরিয়ে নেওয়ার তিন মাস পর মিয়ানমারে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছে বিবিসি। তাদের বেশিরভাগই সে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা গোষ্ঠী 'বা হটু আর্মি'র সঙ্গে রয়েছেন। তাদের এক সদস্যের ফোন থেকে ভিডিও কলে সোয়েদ নূর নামে এক রোহিঙ্গা বলছিলেন, "আমরা এখানে নিরাপদ বোধ করছি না। এটা সম্পূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র।"
বিবিসির খবরে আরো বলা হয়, গত ৬ মে দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় বসবাসরত ৪০ জন রোহিঙ্গাকে প্রথমে স্থানীয় থানায় ডেকে পাঠানো হয়। তখন তাদের বলা হয়, নিয়ম অনুযায়ী তাদের ছবি ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হবে। পরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা শেষে তাদেরকে আটক করে শহরের ইন্দরলোক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। শরণার্থীরা আরো জানিয়েছেন, গত ৭ মে দিল্লির ঠিক পূর্বদিকে হিন্ডন বিমানবন্দরে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তারা বঙ্গোপসাগরে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জগামী বিমানে উঠেছিলেন।
মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত থমাস অ্যান্ড্রুজ জানিয়েছেন, এই সমস্ত অভিযোগের স্বপক্ষে "উল্লেখযোগ্য প্রমাণ" রয়েছে। যা তিনি জেনেভায় ভারতের মিশন হেড-এর সামনে পেশ করেছেন। কিন্তু এখনো কোনো সাড়া পাননি।
এদিকে এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে বিবিসি। কিন্তু এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত কোনো উত্তর মেলেনি।
ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গারা জানান, ভারতে রোহিঙ্গাদের অবস্থা অনিশ্চিত। ভারত রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকার করে না। বরং 'ফরেনার্স অ্যাক্ট'-এর আওতায় তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।
ভারতে একটা বড় সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর বাস, তবে বাংলাদেশে এর সংখ্যা সর্বোচ্চ। সেখানে ১০ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাস করে। এদের বেশিরভাগই ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীর ভয়াবহ অভিযানের পর মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। সে দেশে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাস করলেও রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এ নিবন্ধিত ২৩ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী ভারতে রয়েছে। তবে 'হিউম্যান রাইটস ওয়াচ' নামক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রকৃত সংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি।
