নিজস্ব প্রতিবেদক।।
ব্যাংকে রাখা আপনার টাকায় প্রতি বছরই শুল্ক কেটে নিচ্ছে সরকার। এছাড়া নানা খাত দেখিয়ে ব্যাংকগুলোও টাকা কাটছে দেদারচে। বিশেষ করে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর তো কথাই নাই। কথায় কথায় টাকা। এর সঙ্গে আছে সরকারি আবগারি শুল্ক। কিন্তু আপনি জানেন কি? ব্যাংকে কত টাকা রাখলে আপনার ব্যাংক হিসাব থেকে কত টাকা আবগারি শুল্ক কেটে নেওয়া হয়? বেশির ভাগ মানুষই জানি না। টাকা কাটার পর বড়জোড় একটা এসএমস পাওয়া যায়। কখনো বা তা আসেও না। যা-ই হোক, এবার জেনে নিন, আপনার কাছ থেকে কত টাকা আবগারি শুল্ক কাটা হয়। তার আগে বলে নেই, আবগারি শুল্ক আসলে কী? কীভাবে নেওয়া হয়?
একধরনের পরোক্ষ করকে বলা হয় আবগারি শুল্ক। যা সরকার নির্দিষ্ট কিছু পণ্য, সেবা বা আর্থিক কার্যক্রমের ওপর ধার্য করে। যেমন ব্যাংকে টাকা রাখা, মুঠোফোনে কথা বলা ও সিগারেট কেনা ইত্যাদি। এ ধরনের শুল্ক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আয় ও মুনাফার ওপর বসে না। কোনো কার্যকলাপ বা সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বসানো হয়।
ধরুন আপনার ব্যাংক হিসাবে বছরে একবার হলেও তিন লাখ টাকা থাকলে বা লেনদেন করলে আবগারি শুল্ক দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, এই আবগারি শুল্ক বসে হিসাবের স্থিতির ওপর। অর্থাৎ ব্যাংকে যত টাকা ব্যালেন্স থাকবে, তার ওপর। সাধারণত প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে এই শুল্ক কাটা হয়।
এবার বলছি, আপনার কাছ থেকে কত টাকা শুল্ক কাটা হবে, তার হিসাব। ধরুন- আপনার ব্যাংক একাউন্টে যদি বছরের যেকোনো সময় তিন লাখ টাকা পর্যন্ত থাকে, তাহলে কোনো আবগারি শুল্ক কাটা হবে না। তবে তিন লাখ ১ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ১৫০ টাকা কেটে নেওয়া হবে। এছাড়া ৫ লাখ ১ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ৫০০ টাকা; ১০ লাখ ১ টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ৩ হাজার টাকা; ৫০ লাখ ১ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা; এক কোটি টাকা ১ টাকা থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা; ২ কোটি ১ টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা এবং ৫ কোটি টাকার বেশি ৫০ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হবে। এখন আপনি বুঝে নিন, আপনার হিসাব থেকে কত টাকা আবগারি শুল্ক কাটা হবে।
এছাড়া সব ধরনের হিসাব থেকেই এই আবগারি শুল্ক কাটা হয়। যেমন সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব, এফডিআর, ডিপোজিট পেনশন স্কিম বা ডিপিএস ও বেতনভিত্তিক হিসাব ইত্যাদি খাত থেকে।
মূলত: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর এই আবগারি শুল্ক আদায় করে। এনবিআরের পক্ষে ব্যাংকগুলো হিসাব থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবগারি শুল্ক কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়। আবগারি শুল্ক কাটার উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো রাজস্ব সংগ্রহের উৎস, উচ্চ আয়ের করদাতাদের করজালে আনা; ব্যাংক হিসাবে স্বচ্ছতা; আর্থিক শৃঙ্খলা; প্রশাসনিক সুবিধা বা করদাতার সুবিধা।
এত দিন ব্যাংক হিসাবে এক লাখ টাকার বেশি থাকলে আবগারি শুল্ক কেটে রাখা হতো। এখন থেকে তিন লাখ টাকার বেশি থাকলে আবগারি শুল্ক কেটে রাখা হবে। গত জুনে চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় এই পরিবর্তন আনা হয়। এতে গ্রাহকেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।
