
এসবি বাংলা নিউজ ডেস্ক।।
সারা বিশ্বেই প্রতি বছরই যেকোন সময় বড়ো বড়ো ভূমিকম্প আঘাত হানে। সম্প্রতি বাংলাদেশেও মোটামুটি বড় ধরনের ঝাঁকুনি খাওয়ায় এখন সবার মধ্যেই দেখা দিয়েছে চরম আতঙ্ক। আর বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সামনে আরো বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু প্রাকৃতিক এই ঘটনা সম্পর্কে আমরা কতোটুকু জানি। বিবিসি বাংলার সৌজন্যে এখানে আমরা বিস্ময়কর কিছু তথ্য তুলে ধরছি।
যুক্তরাষ্ট্রে ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জিওলজিক্যাল সার্ভে বলছে, প্রত্যেক বছর গড়ে ১৭টি বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ৭ এর উপরে। এবং ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয় একবার। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরে লাখ লাখ ভূমিকম্প হয়। এর অনেকগুলো হয়তো বোঝাই যায় না।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভূমিকম্পের আগে পুকুর, খাল-বিল, হ্রদ ও জলাশয়ের স্থির পানি থেকে দুর্গন্ধ আসতে পারে। এমনকি সেই পানি সামান্য উষ্ণও হয়ে পড়তে পারে। প্লেট সরে যাওয়ার কারণে মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস নির্গত হয় তার কারণে এটা হয়ে থাকে। এর ফলে ওই এলাকার বন্যপ্রাণীর আচরণেও পরিবর্তন ঘটতে পারে। ওপেন ইউনিভার্সিটির প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগ বলছে, ২০০৯ সালে ইটালিতে এক ভূমিকম্পের সময় এক ধরনের ব্যাঙ সেখান থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিলো এবং ফিরে এসেছিলো ভূমিকম্পের পরে। বলা হয়, এই ব্যাঙ পানির রাসায়নিক পরিবর্তন খুব দ্রুত শনাক্ত করতে পারে।
ভূমিকম্পের পরেও পুকুরে কিম্বা সুইমিং পুলের পানিতে আপনি কখনো কখনো ঢেউ দেখতে পারেন। একে বলা হায় শ্যাস। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভূমিকম্প হয়তো শেষ হয়ে গেছে কিন্তু তারপরেও কয়েক ঘণ্টা ধরে অভ্যন্তরীণ এই পানিতে তরঙ্গ অব্যাহত থাকতে পারে।
আমরা জানি, ভূমিকম্পের ফলে ব্যাঙের আচরণে পরিবর্তন ঘটে। কিন্তু ২০০৪ সালে সুনামির আগে ইন্দোনেশিয়ার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, শুধু ব্যাঙ নয় তারা অনেক পশু পাখিকে দেখেছেন ভূমিকম্পের আগে উঁচু এলাকার দিকে ছুটে যেতে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ছোট ছোট কম্পন পশুপাখিরা ভূমিকম্পের আগেই টের পেয়ে যায়।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের কারণে দিনের দৈর্ঘ্য কমবেশি হতে পারে। যেমন-জাপানের উত্তর-পূর্বে ২০০৯ সালের ১১ মার্চ ৮ দশমিক ৯ মাত্রার বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর ফলে পরিবর্তন ঘটে পৃথিবীর ভরের বণ্টনে। এর প্রভাবে পৃথিবী ঘুরতে থাকে সামান্য দ্রুত গতিতে আর তখন দিনের দৈর্ঘ্য কমে যায়। সেদিন ১.৮ মাইক্রো সেকেন্ড দিন ছোট ছিলো।
ভূমিকম্পের আরেকটি খবর হলো- ২০১০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ৮.৮ মাত্রার বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিলো চিলির কনসেপসিওন শহরে। এর ফলে পৃথিবীর শক্ত উপরিভাগে ফাটল ধরে শহরটি ১০ ফুট পশ্চিমে সরে যায়।
অন্যদিকে নেপালে ২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল আঘাত হানে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প। এতে ছোট ওই দেশটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কমে আসে হিমালয়ের অনেক পর্বতের উচ্চতাও। মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কমে গিয়েছিলো এক ইঞ্চির মতো।
